বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার অভিজ্ঞতার কথা বরাবরই খোলামেলা ভাষায় বলতে দেখা যায় বলিউড অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তেকে। ৪১ বছরে পা দিয়ে এবারও নিজের শরীর, ইচ্ছা, আত্মপরিচয় ও যৌনতা নিয়ে নিজের উপলব্ধির কথা জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’–এ অভিনয় করেছেন রাধিকা। সিনেমাটিতে চল্লিশের কোঠায় থাকা এক নারীর জীবন, অনুভূতি ও যৌন আকাঙ্ক্ষার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। এই চরিত্রে কাজ করতে গিয়ে নিজের জীবন ও শরীর সম্পর্কেও নতুন কিছু উপলব্ধি করেছেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
বয়স বাড়া মানেই সবকিছু হারানো নয়
রাধিকার মতে, আমাদের সমাজে বয়স বাড়াকে অনেক সময় নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। বয়স বাড়লেই যেন মানুষের আকর্ষণ, প্রাণচাঞ্চল্য কিংবা আত্মবিশ্বাস কমে যায়—এমন একটি ধারণা সমাজে এখনো রয়েছে।
তবে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে রাধিকা বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁর মতে, ২০ বা ৩০ বছরের তুলনায় ৪১ বছরে এসে তিনি নিজেকে এবং নিজের শরীরকে অনেক বেশি বুঝতে পারছেন। নিজের প্রয়োজন, পছন্দ ও অনুভূতি সম্পর্কে এখন তাঁর উপলব্ধি আরও পরিষ্কার।
২০ থেকে ৪০—বদলে যায় নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি
জীবনের বিভিন্ন বয়সের কথা বলতে গিয়ে রাধিকা মনে করেন, ২০-এর দশকে মানুষ অনেকটা নিষেধের সীমা ভাঙা এবং নতুন অভিজ্ঞতা নেওয়ার মধ্যে থাকে। ৩০-এর দশকে এসে জীবনের দায়িত্ব, ভয় ও সামাজিক প্রত্যাশা অনেক বেশি প্রভাব ফেলতে শুরু করে।
আর ৪০-এর দশকে এসে মানুষ ধীরে ধীরে নিজের জন্য একটি আলাদা জায়গা তৈরি করতে শেখে। নিজের কী ভালো লাগে, কী প্রয়োজন এবং জীবনে আসলে কী চাই—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সুযোগও এই সময়ে বেশি পাওয়া যায় বলে মনে করেন তিনি।
নিজের শরীরকে বোঝার নতুন অভিজ্ঞতা
মাতৃত্বের পর শরীরে নানা পরিবর্তন এসেছে বলেও জানিয়েছেন রাধিকা। আর সেই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নিজের শরীর সম্পর্কে নতুন করে জানার সুযোগ হয়েছে তাঁর।
তাঁর মতে, এই বয়সে এসে নিজেকে সুস্থ, তরুণ ও প্রাণবন্ত মনে হচ্ছে। শরীরের পরিবর্তনকে নেতিবাচকভাবে না দেখে বরং সেটিকে নিজের জীবনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে গ্রহণ করার কথাও উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে।
যৌনতা নিয়ে সামাজিক সংকোচ
রাধিকার আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি ছিল যৌনতা নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি। বিশেষ করে নারীদের যৌন ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষার ক্ষেত্রে এখনো অনেক সামাজিক সংকোচ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
ছোটবেলার কথা স্মরণ করে অভিনেত্রী জানান, এমন একটি পরিবেশে বড় হয়েছেন যেখানে যৌনতাকে অনেক সময় খারাপ বা লজ্জার বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করা হতো। তাঁর মতে, এই মানসিকতা বদলানো প্রয়োজন।
নারী ও পুরুষের যৌন ইচ্ছাকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রাধিকা। তাঁর মতে, এটি দুজন মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতির অংশ, তাই বিষয়টিকে শুধু লজ্জা বা নিষেধের চোখে দেখার প্রয়োজন নেই।
মেয়েকে ভিন্নভাবে বড় করতে চান
নিজের মেয়ের ক্ষেত্রেও তিনি এই বিষয়ে খোলামেলা ও ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি করতে চান। মেয়ের নিজের শরীর বা অনুভূতি নিয়ে কোনো প্রশ্ন তৈরি হলে তাকে লজ্জা বা ভয় দেখানোর বদলে বোঝানোর চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন রাধিকা।
রাধিকার কথায়, নিজের শরীর সম্পর্কে জানা বা কৌতূহলী হওয়া স্বাভাবিক। তাই এসব বিষয়কে ভয় কিংবা লজ্জার সঙ্গে না জড়িয়ে সচেতনতার সঙ্গে দেখাই গুরুত্বপূর্ণ।
রাধিকার এই বক্তব্য শুধু তাঁর ব্যক্তিগত উপলব্ধির কথা নয়; একই সঙ্গে বয়স, শরীর, মাতৃত্ব ও নারীর ব্যক্তিগত অনুভূতি নিয়ে সমাজের প্রচলিত ধারণাগুলো নিয়েও নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করে। ৪০ পেরোনো জীবন যে থেমে যাওয়ার নাম নয়, বরং নিজেকে আরও গভীরভাবে জানার একটি নতুন অধ্যায়—রাধিকার কথায় সেটিই যেন উঠে এসেছে।
