ঢাকা, ২৩ আগস্ট ২০২৬: ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে স্বর্ণ ও হীরার গয়না রপ্তানি করে ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার আয় করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
শনিবার রাতে রাজধানীতে আয়োজিত ‘বাজুস জুয়েলারি ফ্যাশন কার্নিভাল ২০২৬’-এ এ লক্ষ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বাংলাদেশের জুয়েলারি শিল্পের রপ্তানি সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, নীতিগত সহায়তা, বিনিয়োগ ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে জুয়েলারি শিল্পকে প্রতিযোগিতামূলক ও রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত করা সম্ভব। এ খাতকে এগিয়ে নেওয়া গেলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
বাজুস সভাপতি এনামুল হক খান বলেন, ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে জুয়েলারি খাতকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা আয়কারী খাতে পরিণত করতে চায় সংগঠনটি। তবে নীতিগত অস্পষ্টতা এ শিল্পের অন্যতম বড় বাধা বলে উল্লেখ করে তিনি বৈষম্যহীন নীতিমালার মাধ্যমে স্বর্ণ আমদানি সহজ করার দাবি জানান।
বাজুসের হিসাব অনুযায়ী, স্বর্ণ আমদানি সহজ করা গেলে দেশের বাজারে প্রতি ভরি গয়নার দাম অন্তত ৩০ হাজার টাকা কমতে পারে। সংগঠনটি প্রস্তাবিত ‘গোল্ড পলিসি-২০১৮ (সংশোধিত)-২০২৬’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বছরে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত সরকারি রাজস্ব আসতে পারে বলেও জানিয়েছে।
এ ছাড়া এককালীন ফি নিয়ে অপ্রদর্শিত স্বর্ণ বৈধ করার সুযোগ দিলে অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় এবং দেশে মোট স্বর্ণের মজুতের একটি ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরির সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে বাজুস।
রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ৫০০টি আধুনিক জুয়েলারি কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। এসব কারখানায় সরাসরি প্রায় ৫০ হাজার এবং পরোক্ষভাবে আরও ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে।
রাজধানীতে ১০ বিঘা জমিতে ‘স্বর্ণপল্লি’ নামে একটি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে বাজুস। সেখানে হীরা প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিট স্থাপনের প্রস্তাবও রয়েছে।
সংগঠনটি জানায়, ২০০৬ সালের ‘রাফ ডায়মন্ড ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট (কন্ট্রোল) রুলস’ হালনাগাদ করা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হীরা আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্ক কমানো হলে দেশে হীরা প্রক্রিয়াজাত শিল্প বিকশিত হতে পারে। প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার করা গেলে ২০৩১ সালের মধ্যে বছরে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের হীরার গয়না রপ্তানি সম্ভব বলেও বাজুসের পূর্বাভাস।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ২৮ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জুয়েলারি খাতের ওপর নির্ভরশীল। সারা দেশে প্রায় ৪০ হাজার জুয়েলারি ব্যবসা ও ৪ লাখ কারিগর এই খাতের সঙ্গে যুক্ত।
অনুষ্ঠানে পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী আনে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান এফসিএমএ, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

