
নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক রিপোর্ট
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করে তুলতেই সরকার ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করছে। তাঁর ভাষ্য, পরিবারের মায়েরা যেন সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে আরও সক্ষম হন, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় আয়োজিত এক জনসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল তাঁর প্রথম চট্টগ্রাম সফর। এ সময় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০টি পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবিও তুলে দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ফ্যামিলি কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করে। সেই কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী ১৬ আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সারা দেশে এর বাস্তবায়ন শুরু হবে।
তিনি বলেন, চলতি বছর দেশের প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের নারী সদস্যের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে আগামী চার বছরে আরও বহু পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাঁশখালীর প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরের মধ্যেই উপজেলার প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার ফ্যামিলি কার্ড সুবিধা পাবে। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ পরিবারগুলোর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকারপ্রধান বলেন, জনগণের সমর্থনই সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি। মানুষের আস্থা নিয়ে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক বন্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব। সেই ধারাবাহিকতায় বাঁশখালীতে ১০০টি পরিবারের হাতে দুর্যোগসহনশীল নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অসহায় নারীদের খাদ্যসহায়তাও দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়; বরং মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বাঁশখালীর সমাবেশস্থলে হাজারো মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও অসচ্ছল পরিবারগুলোর মধ্যে নতুন ঘর বিতরণের পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার উন্নয়ন ও পর্যটন সম্ভাবনা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে ফটিকছড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি পরে হাটহাজারীতে বন্যাকবলিত আরও কয়েকটি পরিবারের মধ্যে সহায়তা বিতরণ করবেন। দিনের শেষ ভাগে চট্টগ্রাম নগরে দলীয় নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠকে অংশ নেওয়ারও সূচি রয়েছে।