এশিয়ান গেমসে মাত্র ১১ বছর বয়সেই সোনার পদক জিতে চমক সৃষ্টি করেছেন জাপানের ইউকি কুরিহারা। ২০২৬ আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে ই-স্পোর্টসের ‘পুইও পুইও চ্যাম্পিয়নস’ ইভেন্টে দক্ষিণ কোরিয়ার কাং দং-শিনকে ১০-২ ব্যবধানে হারিয়ে স্বর্ণপদক জেতেন তিনি।
ফাইনালে শুরুটা অবশ্য ইউকির পক্ষে ভালো ছিল না। প্রথম ম্যাচে ০-১ পিছিয়ে পড়ার পর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ান তিনি এবং শেষ পর্যন্ত ১০-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।
এর আগে সেমিফাইনালে থাইল্যান্ডের ২৮ বছর বয়সী তানারাক ওয়ংকিটকুনকে ১০-১ ব্যবধানে হারিয়েছিলেন ইউকি। প্রতিযোগিতায় নিজের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বয়সী খেলোয়াড়দেরও হারিয়ে নজর কেড়েছেন এই জাপানি স্কুলশিক্ষার্থী। তাকে এশিয়ান গেমসের অন্যতম কনিষ্ঠ প্রতিযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং তিনি জাপানের এশিয়ান গেমস ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী অ্যাথলেট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
সোনা জয়ের পর ইউকি বলেন, “আমি খুব খুশি। সোনার পদকটি সত্যিই সুন্দর, চকচকে ও ভারী।”
পুইও পুইও চ্যাম্পিয়নস একটি পাজল গেম। এতে বিভিন্ন রঙের বল সাজিয়ে সেগুলো পর্দা থেকে সরিয়ে দিতে হয়। ইউকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম বছর থেকেই এই গেম খেলছেন। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্য পেতে শুরু করেন।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পেশাদার লাইসেন্সও পান ইউকি। এরপর থেকে নিয়মিত প্রাপ্তবয়স্ক প্রতিযোগীদের হারিয়ে আসছেন তিনি। তবে স্কুল ও অতিরিক্ত ক্লাসের পাশাপাশি ই-স্পোর্টসের অনুশীলন চালিয়ে যাওয়া সহজ নয় বলে জানিয়েছেন এই কিশোর। তারপরও খেলাটিকে তিনি উপভোগ করেন বলে জানান।
এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী পদকজয়ীর পূর্ণাঙ্গ সরকারি রেকর্ড প্রকাশ্যে নেই। তবে ২০১৮ সালের জাকার্তা এশিয়ান গেমসে ইন্দোনেশিয়ার বুঙ্গা নিমাস ১২ বছর বয়সে স্কেটবোর্ডিংয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। ২০২২ হাংঝু এশিয়ান গেমসে চীনের কুই চেনসি ১৩ বছর বয়সে সোনা জেতেন। সেই তুলনায় ১১ বছর বয়সে ইউকির সোনা জয় নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী এক নজির।
