বাংলাদেশের জন্য হংকংয়ে ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি বিশেষায়িত তহবিল চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এই অর্থ ঋণ হিসেবে নয়, ইকুইটি বিনিয়োগ হিসেবে বাংলাদেশে আসবে।

শনিবার রাজধানীতে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘২০২৬ অর্থবছরের অর্ধবার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থায়নের উৎস বহুমুখীকরণ, পুঁজিবাজার পুনরুজ্জীবিত করা এবং প্রচলিত ঋণের ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকার বিকল্প অর্থায়নের পথ খুঁজছে। এর অংশ হিসেবেই হংকংয়ে ‘বাংলাদেশ ডেডিকেটেড ফান্ড’ গঠন করা হবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন দেশের পুঁজিবাজার দুর্বল থাকায় বেসরকারি খাতের অর্থায়নের সুযোগও সীমিত ছিল। এখন পুঁজিবাজারকে বিকল্প অর্থায়নের একটি কার্যকর উৎস হিসেবে গড়ে তুলতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আমির খসরু জানান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) নতুন নেতৃত্ব নিয়োগসহ নিয়ন্ত্রক কাঠামোয় বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাঁর দাবি, এর ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধীরে ধীরে ফিরছে এবং পুঁজিবাজারও ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখাচ্ছে।

তবে শুধু বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরলেই হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভালো কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্যও বাজারের ওপর আস্থা রাখতে হবে।

অর্থমন্ত্রী জানান, হংকংয়ের ২০০ কোটি ডলারের তহবিলটি সরকারের ওপর নতুন ঋণের বোঝা তৈরি করবে না, কারণ এটি হবে ইকুইটি বিনিয়োগ। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য ডলার বন্ড, পান্ডা বন্ড ও সামুরাই বন্ড চালুর কথাও বিবেচনা করছে সরকার।

দেশের ব্যাংক ও অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারি ঋণ নেওয়ার পরিমাণ কমিয়ে বেসরকারি খাতের জন্য আরও অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি। ইতোমধ্যে ব্যাংকঋণ কিছুটা কমানো হয়েছে, তবে বিকল্প অর্থায়নে পুরোপুরি যেতে সময় লাগবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

কর ব্যবস্থার বিষয়ে আমির খসরু বলেন, বর্তমানে যারা কর দিচ্ছেন তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করা সরকারের লক্ষ্য নয়। বরং করদাতার সংখ্যা ও করের আওতা বাড়ানোর মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়াতে চায় সরকার। কর প্রশাসনে অটোমেশন বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি।

অর্থমন্ত্রীর মতে, শক্তিশালী পুঁজিবাজার, আন্তর্জাতিক ইকুইটি বিনিয়োগ, বিভিন্ন ধরনের বন্ড এবং বিস্তৃত করভিত্তি—এই চারটি দিককে এগিয়ে নেওয়া গেলে বাংলাদেশের অর্থায়ন কাঠামো আরও টেকসই হবে এবং বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ বাড়বে।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version