বিশেষ প্রতিবেদক
ঢাকা
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে নতুন আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে নির্বাচনী প্রচারে পোস্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়েছে। তবে প্রার্থী ও সমর্থকেরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাতে পারবেন।
সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য পৃথক আচরণবিধি জারি করা হলেও মূল বিধানগুলো প্রায় একই। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকের বাইরে অনুষ্ঠিত হবে।
ইসির জারি করা আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারে পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। তবে নির্ধারিত নিয়ম মেনে ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেট ও বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। এসব প্রচারসামগ্রীর আকার ও ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে প্রচারে অনুমতি
নতুন আচরণবিধিতে ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো, মিথ্যা তথ্য প্রচার, প্রতিপক্ষের চরিত্রহনন ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অনলাইনে প্রচার চালানোর আগে প্রার্থীর সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের আইডি ও ই-মেইল ঠিকানা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে।
প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রচার নয়
আগের মতোই প্রতীক বরাদ্দের আগে নির্বাচনী প্রচার চালানো যাবে না। এছাড়া প্রার্থী বা সমর্থকেরা জনসভা কিংবা মিছিল করতে পারবেন না।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় একজন প্রার্থীর সঙ্গে সর্বোচ্চ পাঁচজন সমর্থক থাকতে পারবেন।
ভোটারদের তথ্য সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা
ভোটারকে কোনো প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ভোটার কিংবা তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর সংগ্রহ করা যাবে না।
এ ছাড়া মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) লেনদেনের উদ্দেশ্যে ভোটারদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রচারে নিষেধাজ্ঞা
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিরা। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, চিফ হুইপ, হুইপ, বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতা, সংসদ সদস্যসহ সমমর্যাদার ব্যক্তিরা রয়েছেন।
সিটি করপোরেশনের মেয়র বা প্রশাসক এবং স্থানীয় সরকারের চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য ব্যক্তিরাও প্রার্থী ছাড়া নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।
আচরণবিধি লঙ্ঘনে শাস্তি
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। গুরুতর অনিয়মের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতাও রাখে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগেই আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন।
