
দৈনিক রিপোর্ট ডেস্ক:
বাগেরহাটের সুন্দরবনে বন বিভাগের একটি কার্যালয়ের সামনে একটি বাঘের অবাধ বিচরণের ঘটনা ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। শুক্রবার (২৫ জুলাই) দুপুরে চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র এলাকায় বাঘটিকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। উপস্থিত বনকর্মীরা মুঠোফোনে পুরো ঘটনাটি ধারণ করেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, শ্যালা নদীর দিক থেকে এসে বাঘটি বন কার্যালয়ের সামনের খোলা জায়গায় কিছু সময় দাঁড়িয়ে চারপাশ পর্যবেক্ষণ করে। একপর্যায়ে পেছনের দিকেও তাকায়। পরে ধীরগতিতে উত্তর পাশের জঙ্গলের দিকে চলে যায়।
আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রটি সুন্দরবনের শ্যালা নদীর দক্ষিণ-পশ্চিম তীরে অবস্থিত। ২০২১ সালে সুন্দরবনে পর্যটন সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এখানে ওয়াচ টাওয়ার, ফুট ট্রেইল এবং পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়।
এর আগে গত ১৩ জুলাই এই কেন্দ্রের দক্ষিণাঞ্চলে বন বিভাগ একটি উদ্ধার করা বাঘিনীকে অবমুক্ত করেছিল। ওই বাঘিনীকে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি বৈদ্যমারী ফরেস্ট ক্যাম্পের আওতাধীন শরকির খাল এলাকা থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে শুক্রবার যে বাঘটির দেখা মিলেছে, সেটি ওই বাঘিনী কি না, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি বন বিভাগ।
চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাস জানান, বাঘটির গায়ের ডোরাকাটা দাগ বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি আগে অবমুক্ত করা বাঘিনী নয়; বরং অন্য একটি বাঘ হতে পারে। তিনি বলেন, যেখানে বাঘিনীকে অবমুক্ত করা হয়েছিল, সেখানে পর্যাপ্ত খাদ্যের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে খাবারের সংকটে সে বনাঞ্চল ছাড়ছে—এমন সম্ভাবনা কম।
বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে সম্প্রতি সুন্দরবনের আশপাশের প্রায় আট কিলোমিটার এলাকায় ২০টি ক্যামেরা ট্র্যাপ স্থাপন করেছে বন বিভাগ। এসব ক্যামেরায় রয়েল বেঙ্গল টাইগারের পাশাপাশি চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, বনমোরগ, বন্য শূকর, মেছো বাঘ ও উদ্বিড়ালসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি ধরা পড়েছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, শুধু ক্যামেরা ট্র্যাপেই নয়, নিয়মিত টহলের সময়ও আগের তুলনায় বাঘের পায়ের ছাপ বেশি দেখা যাচ্ছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, সুন্দরবনের এই অংশে বাঘের চলাচল আগের তুলনায় বেড়েছে।