দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের তদন্তের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। বুধবার রাতে WHO মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে জানিয়েছে Reuters।
সায়মা ওয়াজেদ বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে। তিনি ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে WHO’র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর নিয়োগের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।
তবে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়া এবং বাংলাদেশে জমি-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ নিয়ে WHO তদন্ত করছে। সায়মা ওয়াজেদ অবশ্য অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।
চীন সফরের খরচ নিয়ে অভিযোগ
Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন সফরের সময় ভ্রমণ ব্যয়ের অর্থ ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করছে WHO। অভিযোগে অর্থের পরিমাণ ছিল ৯০১ মার্কিন ডলার।
সায়মা ওয়াজেদ তাঁর আইনজীবীদের মাধ্যমে WHO-কে দেওয়া চিঠিতে দাবি করেন, ঘটনাটি তাঁর একজন সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে ঘটেছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়মিত ভ্রমণ ব্যয় ফেরতের আবেদন প্রক্রিয়াকরণের সময় ভুলটি হয়।
শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন
তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। জবাবে সায়মা ওয়াজেদ জানিয়েছেন, অটিজম নিয়ে বাংলাদেশে তাঁর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন এবং WHO মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল।
জমি নিয়ে অভিযোগ
Reuters-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে একটি জমি বেআইনিভাবে দখলে রাখার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। সায়মা ওয়াজেদ এ অভিযোগও অস্বীকার করেছেন। তাঁর পদত্যাগপত্রে তিনি দাবি করেন, WHO-তে যোগ দেওয়ার আগেই জমিটির মালিকানা তাঁর ছিল এবং শেখ হাসিনার বাবা শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি বাংলাদেশি আইনের আওতায় তিনি জমিটির অধিকার পেয়েছিলেন।
প্রায় এক বছর বেতন পাননি
পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ WHO নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তাঁর দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, তাঁকে বেতনবিহীন ছুটিতে পাঠানোর পর প্রায় এক বছর ধরে কোনো বেতন বা পারিশ্রমিক পাননি, ফলে তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়েছে।
চিঠিতে তিনি WHO নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারানোর কথাও উল্লেখ করেন এবং দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান।
২০২৫ সাল থেকে তদন্তের মধ্যে
বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০২৫ সালের মার্চে সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করে বলে Reuters জানিয়েছে। একই বছরের জুলাইয়ে তাঁকে প্রথমবারের মতো ছুটিতে পাঠানো হয় এবং পরে তিনি বেতনবিহীন ছুটিতে ছিলেন।
WHO-র নথি অনুযায়ী, সায়মা ওয়াজেদ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন।
তাঁর পদত্যাগের পর WHO দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের জন্য নতুন আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় যাবে। Reuters জানিয়েছে, নতুন পরিচালক নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন প্রক্রিয়া অক্টোবর এবং নির্বাচন জানুয়ারিতে হওয়ার কথা রয়েছে।
