বিনোদন ডেস্ক
এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তৈরি ডিপফেক ভিডিও, বিকৃত ছবি ও অননুমোদিত ডিজিটাল কনটেন্টে নিজের নাম, ছবি ও কণ্ঠস্বর ব্যবহারের অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন দক্ষিণী অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু। এবার সেই মামলায় অন্তর্বর্তী সুরক্ষা পেলেন তিনি।
১ অক্টোবর বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি মাধব জামদারের একক বেঞ্চ সামান্থার পরিচয় ব্যবহার করে তৈরি অননুমোদিত ও আপত্তিকর ডিজিটাল কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। আদালত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, এআই প্ল্যাটফর্মসহ সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল মাধ্যমগুলোকে এমন কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছে।
নাম, ছবি ও কণ্ঠস্বর ব্যবহারের অভিযোগ
মামলায় সামান্থা অভিযোগ করেন, তাঁর অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, এআই প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে তাঁর নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর ও পরিচয় ব্যবহার করা হচ্ছে।
এর মধ্যে এআই-নির্মিত ডিপফেক ভিডিও, বিকৃত ছবি, কৃত্রিম কণ্ঠস্বর এবং আপত্তিকর কনটেন্টের পাশাপাশি তাঁর পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।
সামান্থার আইনজীবীরা আদালতে বলেন, এ ধরনের অননুমোদিত ব্যবহার তাঁর ব্যক্তিগত মর্যাদা, গোপনীয়তা, পেশাগত পরিচয় ও ব্যক্তিত্ব-সংক্রান্ত অধিকারে প্রভাব ফেলছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
প্রাথমিকভাবে আদালত মনে করেছে, মামলায় উপস্থাপিত কনটেন্ট সামান্থার ব্যক্তিত্ব ও পাবলিসিটি-সংক্রান্ত অধিকারে হস্তক্ষেপের বিষয়টি তুলে ধরে। আদালত তাঁর নাম, ছবি ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে তৈরি আপত্তিকর কনটেন্ট প্রকাশ ও প্রচার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।
আদালতের আদেশে সামান্থার ব্যক্তিত্ব-সংক্রান্ত অধিকার, গোপনীয়তা ও মানবিক মর্যাদার মতো অধিকারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিপফেকের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই
সামান্থার মামলা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি ডিপফেক ও পরিচয়-নকল কনটেন্ট নিয়ে বিনোদন অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে। আদালতের এই অন্তর্বর্তী নির্দেশের ফলে তাঁর পরিচয় ব্যবহার করে তৈরি অভিযোগযুক্ত কনটেন্ট সরানোর আইনি প্রক্রিয়া আরও জোরালো হয়েছে।
