আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে শিশুদের নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাত মাস বয়সী এক শিশুকে গুলি করে হত্যার অভিযোগের পর সন্তানের মায়ের প্রশ্ন, ‘কোলের এই শিশুটি সৈন্যদের কী ক্ষতি করেছিল?’

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে ২০২৬ সালের জুনে সাত মাস বয়সী সাম আবু হাইকাল গুলিতে নিহত হয়। শিশুটির মা দানিয়া আবু হাইকাল জানান, গাড়িতে থাকা অবস্থায় ইসরায়েলি সেনারা গুলি চালালে তাঁর কোলে থাকা শিশুটি গুলিবিদ্ধ হয়। এ সময় তিনিও আহত হন। একটি গুলি তাঁর গাল ভেদ করে কান দিয়ে বেরিয়ে যায় বলে জানান তিনি।

দীর্ঘদিন পরও সন্তান হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি দানিয়া। তিনি বলেন, প্রতিদিন কাঁদেন এবং সন্তান ছাড়া তাঁর জীবন শূন্য মনে হয়। তাঁর প্রশ্ন, এত ছোট একটি শিশুকে কেন লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলো।

তবে ঘটনার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করে, সেনাদের একটি গাড়ি দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়ার সময় এক সেনা ‘জড়িত নয় এমন বেসামরিক নাগরিকদের’ লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিলেন। শিশুটির মা অবশ্য সেনাবাহিনীর এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন।

পশ্চিম তীরে শিশু নিহতের সংখ্যা বাড়ছে

ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বি’তসেলেমের হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ২৩৫ শিশু ও কিশোর নিহত হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট একটি সংস্থার হিসাবে এই সংখ্যা ২৫০।

বি’তসেলেমের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ থেকে ২০২১ সালের ১৭ বছরে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে মাসে গড়ে প্রায় একজন ফিলিস্তিনি শিশু বা কিশোর নিহত হয়েছিল। কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর সেই হার বেড়ে মাসে গড়ে প্রায় সাতজনে দাঁড়িয়েছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নিহত ৫৪ ফিলিস্তিনি শিশু ও কিশোরের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী ছিল দুই বছরের একটি শিশু।

মায়েদের দীর্ঘ অপেক্ষা

বার্তা সংস্থা এএফপি পশ্চিম তীরে সন্তান হারানো ১২ জন মায়ের সঙ্গে কথা বলেছে। তাঁদের প্রত্যেকের অভিজ্ঞতায় সন্তান হারানোর শোকের পাশাপাশি ন্যায়বিচার না পাওয়ার হতাশার কথাও উঠে এসেছে।

ফিলিস্তিনি মায়েদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তা অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে শিশুরাও প্রাণ হারাচ্ছে। নিহতদের পরিবার এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি দাবি করছে।

সাম আবু হাইকাল হত্যার ঘটনাতেও তাঁর মা সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version