ঢাকা, ২৩ আগস্ট ২০২৬: রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য শুধু কূটনৈতিক তৎপরতা যথেষ্ট নয়; রোহিঙ্গাদের ইতিহাস, ভূমির সঙ্গে সম্পর্ক ও পরিচয়ের প্রমাণ সংরক্ষণও জরুরি বলে মনে করছেন লেখকেরা। তাঁদের মতে, এসব তথ্য ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক কূটনীতি, আইন ও ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে।
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ব্যাপক সহিংসতা ও নিপীড়নের মুখে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। প্রায় নয় বছর পরও কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন।
লেখকদের মতে, আশ্রয়, খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মানবিক সহায়তা রোহিঙ্গাদের বেঁচে থাকতে সহায়তা করলেও সংকটের মূল কারণ দূর করতে পারেনি। সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে মিয়ানমারের রাজনৈতিক অবস্থান এবং রোহিঙ্গাদের সেখানে নাগরিক ও ঐতিহাসিকভাবে অন্তর্ভুক্তির অধিকার অস্বীকার করা।
প্রতি বছর প্রত্যাবাসন না হওয়ায় শিবিরে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম রাখাইন দেখেনি। তাদের ভাষা, গান, মৌখিক ইতিহাস ও নিজ ভূমির স্মৃতিও ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই রোহিঙ্গাদের নিজেদের ইতিহাস নথিভুক্ত ও সংরক্ষণ করা জরুরি।
লেখকদের প্রস্তাব, রোহিঙ্গাদের আলাদা ভাষা, পারিবারিক ও গ্রামভিত্তিক মৌখিক ইতিহাস, জমিজমার তথ্য, ছবি, মানচিত্র, পোশাক ও প্রবীণদের সাক্ষ্য পদ্ধতিগতভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হোক। এসব নথি ভবিষ্যতে আদালত, সরকার ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ঐতিহাসিক শিকড়ের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
এ উদ্দেশ্যে কক্সবাজারের ক্যাম্প-১৭-এ প্রস্তাবিত ‘রোহিঙ্গা হিস্ট্রি অ্যান্ড নলেজ সেন্টার’কে শুধু একটি জাদুঘর হিসেবে নয়, বরং ইতিহাস ও সাক্ষ্য সংরক্ষণের একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এখানে রোহিঙ্গা তরুণদের তিন প্রজন্মের মৌখিক ইতিহাস, মানচিত্র, নিদর্শন ও সাক্ষ্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নথিভুক্ত করার প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে।
লেখকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। সরকারের উচিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কৌশলের অংশ হিসেবে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে বিবেচনা করা এবং জাতিসংঘ, আসিয়ান ও ওআইসির মতো আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে সংগৃহীত তথ্য তুলে ধরা।
একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিজস্ব ইতিহাস সংরক্ষণে তাদের নেতৃত্ব নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। লেখকদের মতে, ভবিষ্যতে প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি হলে রোহিঙ্গাদের যেন নিজেদের পরিচয় ও নিজ ভূমির সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রমাণ নতুন করে প্রতিষ্ঠা করতে না হয়, সে জন্য এখন থেকেই নথি সংরক্ষণ জরুরি।
Read more: https://doinikreport.com/
