পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির আজ সোমবার ইরান সফরে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি ইরানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রয়টার্সকে পাকিস্তানের দুটি সরকারি সূত্রও আসিম মুনিরের তেহরান সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, বৈঠকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সর্বশেষ পরিস্থিতি, সম্ভাব্য শান্তি প্রক্রিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
পাকিস্তান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং আলোচনার পথ তৈরি করতে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এ প্রচেষ্টা জোরদার হয়েছে।
আলোচনায় থাকবে নিষেধাজ্ঞা ও হরমুজ
আসিম মুনিরের সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের ওপর নতুন ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইতিমধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর’ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বৈঠকে পাকিস্তানের শান্তি-উদ্যোগসংক্রান্ত সমঝোতা, পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি আরবের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং ইয়েমেনের হুতিদের বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে বলে পাকিস্তানি সূত্র জানিয়েছে।
হরমুজ নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি বন্ধ থাকবে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরান সতর্ক করে বলেছে, অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো তেলবাহী জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর অবস্থানে রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আসিম মুনিরের তেহরান সফরকে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সম্ভাবনা ফেরানোর প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

