আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ভালো-মন্দ—দুই ধরনের খবর পেল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। আগস্টে দেশটিতে কর্মসংস্থান বেড়েছে, তবে একই সময়ে ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোয় মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএলএস) তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশটিতে ১ লাখ ৬২ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। এ সময়ে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে।
তবে একই দিনে ডিজেলের দাম নতুন রেকর্ড গড়েছে। সড়ক পরিবহন, কৃষি ও নির্মাণ খাতে বহুল ব্যবহৃত এই জ্বালানির দাম ইরান যুদ্ধ শুরুর পর ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে ৫৫ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে মোটরচালকদের সংগঠন এএএ।
কর্মসংস্থানের শক্তিশালী তথ্য প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে দরপতন দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীদের নজর এখন চলতি মাসের শেষ দিকে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নির্ধারণী বৈঠকের দিকে।
শক্তিশালী শ্রমবাজার মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কায় ফেড সুদের হার বাড়ানোর পথ বেছে নিতে পারে। বর্তমানে দেশটির মূল্যস্ফীতি ফেডের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে। জুলাইয়ে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। আগস্টের মূল্যস্ফীতির তথ্য আগামী সপ্তাহে প্রকাশ হওয়ার কথা।
ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ ও শুল্কনীতির কারণে জ্বালানি ব্যয়সহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। যদিও মে মাসে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর থেকে কিছুটা কমেছে।
ফেডের কয়েকজন নীতিনির্ধারক জানিয়েছেন, আগস্টের মূল্যস্ফীতির তথ্য নিম্নমুখী প্রবণতা নিশ্চিত না করলে তাঁরা সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে যেতে পারেন। গত জুলাইয়ের বৈঠকে ১২ ভোটাধিকারী সদস্যের মধ্যে তিনজন তাৎক্ষণিকভাবে সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছিলেন।
এদিকে কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশের পর ফেডের সুদের হার কমানোর দাবি আবারও জোরালো করেছেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি সুদের হার কমানোর আহ্বান জানান এবং দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ সক্ষমতা আগের তুলনায় শক্তিশালী হয়েছে।
ট্রাম্প সুদের হার ০ দশমিক ৫ থেকে ১ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার পক্ষে মত দিয়েছেন। বর্তমানে ফেডের নীতিনির্ধারণী সুদের হার ৩ দশমিক ৫০ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।
আগস্টের কর্মসংস্থানের তথ্যে দেখা গেছে, রেস্তোরাঁ ও বার খাতে চাকরি বেড়েছে। সরকারি স্কুলগুলোতেও এক মাসের সংকোচনের পর কর্মসংস্থান পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে। জুন ও জুলাইয়ের কর্মসংস্থানের হিসাবও সংশোধন করে মোট ৫৫ হাজার বাড়ানো হয়েছে।
তবে শ্রমিকদের গড় ঘণ্টাপ্রতি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে, যা মূল্যস্ফীতির তুলনায় কম। অর্থাৎ প্রকৃত হিসাবে অনেক কর্মীর আয় কমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ডায়ান সোয়াঙ্ক আগস্টের কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে স্বস্তিদায়ক বললেও সতর্ক করে বলেছেন, এক মাসের তথ্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা নির্ধারণ করা যায় না। তাঁর মতে, শ্রমবাজার আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠছে, যা একদিকে কর্মীদের জন্য ইতিবাচক হলেও অন্যদিকে ফেডের জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
অর্থনীতির আরেকটি উল্লেখযোগ্য প্রবণতা হচ্ছে প্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থান কমে যাওয়া। আগস্টে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রায় ২৩ হাজার চাকরি কমেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বাড়ায় এই খাতে ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
