হাসপাতালের পঞ্চম তলার নেফ্রোলজি বিভাগে ভর্তি আবদুল করিম জানান, আগুন লাগার পর হইচই শুরু হলে তিনি সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে যান। সেখানে একটি দরজায় তালা দেখতে পান। পরে কয়েকজন তালা ভেঙে বের হন। ওই সময়ের আতঙ্ক এখনো কাটেনি বলে জানান তিনি।
হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের স্বজনদের একজন হাদিসা খাতুন বলেন, হঠাৎ চারদিকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। রোগী ও স্বজনদের একদিকে সরিয়ে রাখা হয়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে তাঁদের আবার ওয়ার্ডে নেওয়া হয়।
লিফটে আগুন, আতঙ্কে ছোটাছুটি
সোমবার বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে হাসপাতালের ১১ নম্বর লিফটে আগুন লাগে। এতে লিফটের বাইরের অংশ পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আগুনের পর হাসপাতালের বিভিন্ন তলা থেকে রোগী ও স্বজনেরা হুড়োহুড়ি করে নিচে নামেন। এতে কয়েকজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তবে চারজনের মৃত্যুর যে তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে, তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন এখনো নিশ্চিত করেনি।
হাসপাতালের উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর মাইকিং করে রোগী ও স্বজনদের নিজ নিজ ওয়ার্ডে ফিরে যেতে বলা হয়।
চারজনের মৃত্যুর তথ্য নিয়ে ধোঁয়াশা
অগ্নিকাণ্ডের পর হাসপাতালের একটি রেজিস্টারের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে পাঁচজনের তথ্য পাওয়া যায়। তাঁদের মধ্যে একজনকে চিকিৎসাধীন এবং চারজনকে ‘ব্রট ডেড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান রেজিস্টারটি হাসপাতালের বলে নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি বলেন, চারজন পদদলিত হয়ে মারা গেছেন—এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ চিকিৎসকেরা পাননি। তাঁদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণও তদন্তের আওতায় থাকবে।
রেজিস্টারে চারজনের মৃত্যুর সময় যথাক্রমে সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিট থেকে ৭টা ২৫ মিনিটের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বজনেরা তাঁদের কয়েকজনকে পদদলিত হয়ে মারা যাওয়ার কথা বললেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি
অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গোলাম রহমান ভূঁইয়াকে কমিটির প্রধান ও সদস্যসচিব করা হয়েছে। কমিটিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুজন এবং ফায়ার সার্ভিসের একজন প্রতিনিধি রয়েছেন।
কমিটি লিফটে আগুন লাগার ঘটনায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে। কারও দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেলে তা চিহ্নিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সুপারিশও করা হবে।
