যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি। শনিবার (২৪ অক্টোবর) স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে সঙ্গে নিয়ে নিজ অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে ভোট দেন তিনি।
ভোট দেওয়ার পর ট্রাম্প জানান, তিনি রিপাবলিকান দলের প্রার্থীদের পক্ষেই ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনের আগে তাঁর এই অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টি সুপারভাইজার অব ইলেকশনস কার্যালয়ে ভোট দেন ট্রাম্প ও মেলানিয়া। এরপর জর্জিয়ায় রিপাবলিকানদের একটি নির্বাচনি সমাবেশে যোগ দেওয়ার কর্মসূচি ছিল তাঁর। সূত্র: এপি
‘রিপাবলিকানদের পক্ষেই ভোট দিয়েছি’
ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকেরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, তিনি কি দলের প্রার্থীদের পক্ষেই ভোট দিয়েছেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘খুবই বেশি’—অর্থাৎ তিনি দলীয় প্রার্থীদের পক্ষেই ভোট দিয়েছেন।
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে না পারলে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও নীতিগত কর্মসূচি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের একাংশে ভোট হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গভর্নর ও অন্যান্য স্থানীয় পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ট্রাম্পের
ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, নির্বাচনে ভোটারদের কাছে দুর্নীতি বড় কোনো ইস্যু কি না।
জবাবে তিনি দাবি করেন, ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন শহর ও জেলাতেই দুর্নীতি হচ্ছে। তবে নিজের অভিযোগের পক্ষে ওই বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ তুলে ধরেননি তিনি।
এ সময় ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়েও পুরোনো অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। ওই নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে পরাজিত হওয়ার পর থেকে তিনি বারবার ভোট কারচুপির অভিযোগ করে আসছেন। তবে তাঁর অভিযোগের পক্ষে ব্যাপক নির্বাচনি জালিয়াতির কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
রিপাবলিকানদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এবারের নির্বাচন?
মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দলের ওপর ভোটারদের মূল্যায়নের প্রভাব পড়ে। এ কারণে রিপাবলিকানদের জন্য কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
বিভিন্ন জনমত জরিপে রিপাবলিকানদের জন্য চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে দলটির। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।
রিপাবলিকানরা কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে ট্রাম্পের প্রশাসনিক ও আইনগত কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতার প্রয়োজন বাড়তে পারে। একই সঙ্গে কংগ্রেসের কমিটিগুলোর মাধ্যমে প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তদন্তের উদ্যোগও বাড়তে পারে।
ডেমোক্র্যাট নেতারা ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ফলে নির্বাচনের ফলাফল শুধু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণই নয়, প্রেসিডেন্টের মেয়াদের পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক পরিবেশও প্রভাবিত করতে পারে।
ভোটারদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র
আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে দুই দলের প্রচারণা জোরদার হয়েছে। রিপাবলিকানরা কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে চাইছে, আর ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে।
ট্রাম্পের আগাম ভোটদান নির্বাচনের আগে তাঁর দলীয় অবস্থানকে সামনে এনেছে। তবে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করবে ভোটারদের অংশগ্রহণ, বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ভোটের ফলাফলের ওপর।
