নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে (Mecca Joint Defence Agreement) বাংলাদেশকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
খলিলুর রহমান বলেন, মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা ও আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে দেখে। তবে বর্তমানে চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসেনি। সদস্য দেশগুলো বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করলে তখন বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান গত ৭ আগস্ট মক্কায় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তির আওতায় কোনো একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনার নীতি রাখা হয়েছে।
চুক্তিটি আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি যৌথ সামরিক মহড়া, কৌশলগত সমন্বয় এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও শিল্পে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করছে। তুরস্ক জানিয়েছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয় এবং ভবিষ্যতে এর পরিসর বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানানো হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ এখনো চুক্তিটির সদস্য হয়নি এবং যোগদানের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তও হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান দেশের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

