নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্তির দুই দিন পর দলটির সাবেক আহ্বায়ক মো. আমিনুল হককে আবারও একই পদে দেখতে চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নোমান হোসেন।
সরকারি দায়িত্বে থাকা একজন পুলিশ কর্মকর্তার রাজনৈতিক দলের কমিটি নিয়ে প্রকাশ্য এমন বক্তব্যের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেনের স্বাক্ষর করা এক বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্তির কথা জানানো হয়। ওই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন মো. আমিনুল হক এবং সদস্যসচিব ছিলেন মো. মোস্তফা জামান।
এর দুই দিন পর ওসি নোমান হোসেন তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আমিনুল হককে আবারও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দেখতে চেয়ে পোস্ট দেন।
পোস্টে তিনি আমিনুল হককে সৎ, নীতিবান ও পরোপকারী ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তাঁকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক পদে পুনর্বহালের দাবি জানান। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তরের মানুষের পক্ষ থেকে আমিনুল হকের বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ওসির ওই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই সরকারি দায়িত্বে থাকা একজন পুলিশ কর্মকর্তার রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক বিষয়ে প্রকাশ্য অবস্থান নেওয়ার সমালোচনা করেন। কেউ কেউ তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান। আবার পোস্টটির পক্ষে মন্তব্যও এসেছে।
এ বিষয়ে রূপনগর থানার ওসি নোমান হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, ওসির ফেসবুক পোস্টটি তিনি দেখেছেন। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের তথ্য পাওয়ার পর শনিবার বিকেলে ওসি নোমান হোসেন তাঁর ফেসবুক পোস্টটি মুছে দেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে দ্রুত নতুন কমিটি দেওয়ার কথা জানায় বিএনপি। তবে কমিটি বিলুপ্তির কারণ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
