ইরানের ওপর হামলার জন্য ভবিষ্যতে আবারও বাহরাইনের ভূখণ্ড, সামরিক ঘাঁটি বা আকাশসীমা ব্যবহার করা হলে তার জবাব দেওয়া হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

জাতিসংঘে ইরানের মিশনের কূটনীতিক আলি কারিমি মাঘাম সোমবার (৫ অক্টোবর) জাতিসংঘের তৃতীয় কমিটির এক বৈঠকে বাহরাইনের বক্তব্যের জবাবে এ সতর্কবার্তা দেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বাহরাইনকে শুধুই হামলার ‘ভুক্তভোগী’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে দেশটির ভূখণ্ড, সামরিক স্থাপনা ও আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

‘বাহরাইন ভুক্তভোগী নয়’

ইরানি কূটনীতিক বলেন, বাহরাইন মানবাধিকারের কথা বললেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পেছনের কারণগুলো উপেক্ষা করছে। তাঁর দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতায় বাহরাইনের অবকাঠামো ও সামরিক সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পর এর সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে বাহরাইন বিস্ময় প্রকাশ করতে পারে না।

এর আগে ২০২৬ সালের সংঘাতের বিভিন্ন পর্যায়ে বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো ইরানের হামলার লক্ষ্য হয়েছে। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে।

আবার হামলা হলে জবাবের হুঁশিয়ারি

আলি কারিমি মাঘাম স্পষ্ট করে বলেন, ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের কোনো দেশের ভূখণ্ড ইরানের ওপর হামলার জন্য ব্যবহার করা হলে তেহরান তা মেনে নেবে না।

তাঁর ভাষায়, সামনে দুটি পথ খোলা—একটি হলো সম্মিলিতভাবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা, অন্যটি হলো সবাই মিলে অনিরাপত্তা ও সংঘাতের পরিণতি মোকাবিলা করা।

বাহরাইন যদি আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে একই ধরনের সামরিক সুবিধা দেয়, তাহলে আগের মতো ফল পাওয়া যাবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

ইরানের দাবি, তারা প্রথমে হামলা করেনি

জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধি আরও দাবি করেন, ইরান নিজে থেকে সংঘাত শুরু করেনি। বরং তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং তেহরানের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপকে আত্মরক্ষার অধিকার হিসেবে দেখেন তারা।

ইরানের এই অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতেও তেহরান সতর্ক করে আসছে, নতুন করে বড় ধরনের হামলা হলে তাদের প্রতিক্রিয়ার আওতা আরও বিস্তৃত হতে পারে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের প্রভাব শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডানসহ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি থাকা কয়েকটি দেশও বিভিন্ন সময়ে ইরানি হামলা বা হামলার হুমকির মুখে পড়েছে।

বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দেশটির ভূখণ্ডকে ঘিরে তেহরানের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় আকাশ ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়েও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ রয়েছে। ইউরোপীয় বিমান চলাচল নিরাপত্তা সংস্থাও পারস্য উপসাগরীয় কয়েকটি অঞ্চলের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি রেখেছে।

সামনে কী?

ইরানের এই হুঁশিয়ারি নতুন করে উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনা বাড়াতে পারে। বাহরাইন ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বক্তব্যের কী প্রতিক্রিয়া আসে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে কোনো দেশের ভূখণ্ডকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ব্যবহারের বিষয়টি সামনে রেখে তেহরান যে অবস্থান নিয়েছে, তাতে ভবিষ্যতে নতুন কোনো হামলা হলে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইতোমধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে ইরানের এই সতর্কবার্তা তাই নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version