রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নন্দনগাছী কলেজের এক শিক্ষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। সোমবার (১৭ আগস্ট) কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক সোহেলী আক্তার নন্দনগাছী কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক। গত শনিবার (১৫ আগস্ট) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি ছবিসহ পোস্ট দেন তিনি। পোস্টের ছবিতে বঙ্গবন্ধুর ছবি এবং মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানানোর বার্তা ছিল। ক্যাপশনে তিনি ‘বিনম্র শ্রদ্ধা’ লেখেন।
এর পরই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে জানা গেছে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাকে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
কলেজের অধ্যক্ষ ওয়াহেদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক সোহেলী আক্তার ফেসবুকে নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রধানকে নিয়ে পোস্ট করেছেন—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি জানার পর শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
তবে কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়া কীভাবে শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অধ্যক্ষ কোনো মন্তব্য করেননি।
শিক্ষক বললেন, বরখাস্তের খবরই জানেন না
সোহেলী আক্তার জানিয়েছেন, তিনি বরখাস্তের বিষয়ে আগে কিছুই জানতেন না। সাংবাদিকরা ফোন করার পর বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি বলেন, তার কী অপরাধ তা-ও তিনি জানেন না।
তিনি আরও জানান, রোববার কলেজে গিয়েছিলেন এবং সোমবারের জন্য মৌখিকভাবে ছুটি নিয়েছিলেন।
কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি
কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও চারঘাটের নিমপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জানান, কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে কি না—জানতে চাইলে তিনি জানান, কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। তবে শিক্ষকের বিরুদ্ধে আরও কিছু অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সেসব অভিযোগ বরখাস্তের সিদ্ধান্তসংক্রান্ত রেজুলেশনে উল্লেখ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষক বরখাস্তের প্রক্রিয়া, কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত যথাযথ নিয়মে হয়েছে কি না—এসব বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
