নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে আবারও ফ্যাসিবাদী প্রবণতার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের শেষ পর্যায়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানের সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, “এই সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করেছে। আমরা ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। যারা আবার ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা করছে, তাদের ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে না। আমরা কারও ভয়ভীতি সহ্য করব না। যেখানে বাধা আসবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।”

শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় আনুগত্যকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনিক পদে লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, “বিএনপি তাদের ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিল, সব পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দেশ পরিচালনা করবেন। কিন্তু এখন রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গে দলীয় লোকদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এটি কি গণতন্ত্র, নাকি ফ্যাসিবাদ?”

১১ দলীয় জোটের এই লংমার্চে শফিকুর রহমান সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি পতনের আন্দোলনের কথা না বললেও বর্তমান কর্মকাণ্ডের কারণে সরকার নিজের পতনের পথ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেন।

ছয় দফা দাবি

লংমার্চ থেকে জোটের পক্ষ থেকে ছয়টি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি-গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ করা। পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

লংমার্চের শুরু হয় ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে। সেখানে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

নারায়ণগঞ্জের শিমরাইলে তিনি জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়েও সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে ঘরে ঘরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা

লালদীঘি ময়দানের সমাবেশে এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই জনগণের মধ্যে সরকার কতদিন টিকবে—এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক নিয়োগের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এতে জবাবদিহি ও গণতন্ত্র প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, বিরোধী দলের সহযোগিতা ছাড়া সরকার একা দেশের চলমান সংকট সমাধান করতে পারবে না। জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সরকারের পক্ষে ক্ষমতায় থাকা কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কুমিল্লার পাদুয়ার বাজারে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য সরাসরি সরকার পতন নয়; বরং সরকারকে জনগণের সমস্যার দিকে নজর দেওয়ার জন্য সতর্ক করা।

ফেনীর মহিপালে শফিকুর রহমান বিদ্যুৎ সংকট ও বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ না থাকলেও ক্ষমতাসীনদের বাসভবন ও সংসদে বিদ্যুৎ রয়েছে।

এদিকে, ১১ দলীয় জোটের এই লংমার্চে বিপুলসংখ্যক যানবাহন অংশ নেওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে যানজট সৃষ্টি হয়। কাঁচপুর, কুমিল্লার পাদুয়ার বাজার ও ফেনীর মহিপাল এলাকায় যান চলাচলে এর প্রভাব পড়ে। জামায়াতের মিডিয়া সেল দাবি করেছে, লংমার্চের বহরে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি যানবাহন অংশ নেয়।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সরকারের হাতে দুটি কার্ড থাকতে পারে, কিন্তু জনগণের হাতে ‘লাল কার্ড’ রয়েছে এবং জনগণ শিগগিরই তা দেখাবে।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version