নিজস্ব প্রতিবেদক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নারীর পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তোফায়েল আলম টিটু (৩৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ঢাকা জেলা।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের বাসিন্দা টিটু ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে নিজেকে নারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। পরে ইমোসহ অন্যান্য যোগাযোগমাধ্যমে নারীর কণ্ঠ নকল করে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতেন।
প্রায় ৭ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ
পিবিআই জানায়, এক ভুক্তভোগীর করা সিআর মামলার তদন্তে নেমে বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তদন্তে অভিযোগ পাওয়া যায়, শাহাদাত খানের সঙ্গে ফেসবুক মেসেঞ্জারে নারীর পরিচয়ে যোগাযোগ করেন টিটু।
পরে ইমোতে নারীর কণ্ঠে কথা বলে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর মায়ের সঙ্গেও নারীর কণ্ঠে কথা বলে বিভিন্ন সময়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রায় ৭ লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী আইনগত ব্যবস্থা নেন।
মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার
পিবিআইয়ের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ৮টা ১৫ মিনিটে ঢাকার মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকা থেকে তোফায়েল আলম টিটুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় প্রতারণায় ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন এবং বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিম জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
আরও কয়েকজনের সঙ্গে একই কৌশলে প্রতারণার অভিযোগ
তদন্তে পিবিআই আরও তথ্য পেয়েছে যে, টিটু দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত আরও কয়েকজনের সঙ্গে একই কৌশলে নিজেকে নারী পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জের আদালতে প্রতারণাসংক্রান্ত আরেকটি মামলাও রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ, পিপিএম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পিবিআই ঢাকা জেলা কাজ করছে।
মামলাটির তদন্ত তদারকি করছেন পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ। তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (নিঃ) মো. মঞ্জুর রহমান।
সূত্র: পিবিআই ঢাকা জেলা

