নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুলিশের ওপর গুলি চালানোর পর মোবারক হোসেন ওরফে ‘গালাকাটা মোবারক’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় একটি বাড়ির ওয়াশরুমের ফলস ছাদে লুকিয়ে ছিলেন তিনি। পুলিশ কক্ষে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে একটি পিস্তল দিয়ে গুলি চালান মোবারক।

বুধবার ভোরে ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোবারকের গুলিতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে একপর্যায়ে মোবারকের আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি আটকে যায়। তখন তাকে ফলস ছাদ থেকে নামিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, এর আগে একই বাড়ি থেকে মোবারকের তিন সহযোগী—মো. রায়হান, মো. ফরিদ ও মো. নাসিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে তিনটি পিস্তল, ২৩টি পিস্তলের গুলি ও চারটি শটগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, মোবারক একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং পাহাড়ি এলাকার দুর্গম স্থানগুলোকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করতেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে সহযোগীদেরসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

যেভাবে গ্রেপ্তার মোবারক

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, গত ২৯ জুলাই কারাবন্দী সন্ত্রাসী দাউদ ইমনের গ্রেপ্তারের পর তাঁর কাছ থেকে মোবারকের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। এরপর ফটিকছড়ির বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় একাধিক অভিযান চালালেও মোবারককে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

সোমবার কাঞ্চননগরের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁর কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পাহাড়ে নিরাপদ মনে না করায় মোবারক লেলাং ইউনিয়নের শাহনগরে পরিচিত একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন বলে পুলিশ জানতে পারে।

মঙ্গলবার রাত থেকে পুলিশ বাড়িটি ঘিরে অবস্থান নেয়। বাড়ির লোহার দরজা খুলতে বারবার বলা হলেও ভেতর থেকে দরজা খোলা হয়নি। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে দরজা ভেঙে পুলিশ ভেতরে ঢোকে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িতে ঢোকার পর মোবারকের সহযোগীরা ওয়াশরুমের ফলস ছাদে লুকিয়ে ছিলেন। একপর্যায়ে ওই ছাদের ভেতর থেকে মোবারক ব্রাজিলের তৈরি একটি টারাস পিস্তল দিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে পরপর ছয়টি গুলি ছোড়েন। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আজিজের কানের পাশ দিয়ে একটি গুলি চলে যায়।

মোবারক সপ্তমবার গুলি চালানোর সময় অস্ত্র আটকে গেলে পুলিশ তাঁকে নিয়ন্ত্রণে এনে গ্রেপ্তার করে। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার অস্ত্রাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্র বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আট দিনের রিমান্ড

গ্রেপ্তারের পর মোবারককে অস্ত্র লুট ও পুলিশের ওপর হামলার দুটি মামলায় আদালতে হাজির করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, দুই মামলায় চার দিন করে মোট আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, মোবারকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তিনি রাউজানের যুবদল নেতা মাসুদ হত্যা মামলাতেও জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের দাবি।

মোবারকের গ্রেপ্তারের পর ফটিকছড়ি ও রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এর আগে চাঁদা না পেয়ে ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরের ব্যবসায়ী মো. আবছার উদ্দিন চৌধুরীর বাড়িতে গুলি চালানোর অভিযোগও ছিল মোবারক ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version