নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানত ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হওয়ার প্রথম দিনেই ৬ হাজার গ্রাহককে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। সোমবার থেকে ব্যাংকটির আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
একই দিনে অনলাইনে অর্থ স্থানান্তর কার্যক্রমও চালু করেছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। এতে দীর্ঘদিন সংকটে থাকা ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রমে কিছুটা গতি ফিরেছে।
৬ হাজার গ্রাহক পেলেন ২৫০ কোটি টাকা
ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আমানত ফেরতের জন্য আবেদন করা গ্রাহকদের মধ্যে প্রথম দিনে প্রায় ৬ হাজার জন টাকা তুলেছেন। তবে আবেদনকারী সবাই টাকা নিতে ব্যাংকে আসেননি।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবেদুর রহমান সিকদার জানান, আবেদন করা গ্রাহকদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেক গ্রাহকের সঙ্গে ব্যাংকের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা টাকা ব্যাংকেই রাখার সিদ্ধান্ত জানান। আবার কেউ কেউ টাকা তোলার পর তা আবার ব্যাংকে জমা করেছেন।
৭৪ হাজার গ্রাহকের আবেদন
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানত ফেরতের জন্য ১ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে ৭৪ হাজার আমানতকারী মোট ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেছেন।
গ্রাহকেরা যাতে টাকা তুলতে এসে অর্থসংকটে না পড়েন, সে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
৫ ব্যাংক একীভূত করে গঠন
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। তবে একীভূত হওয়ার পরও পাঁচ ব্যাংকের শাখাগুলো এখনো আলাদাভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
সারা দেশে এই পাঁচ ব্যাংকের মোট শাখার সংখ্যা ৭৬১টি। আমানত ফেরতের প্রথম দিনে গ্রাহকেরা নিজ নিজ শাখা থেকেই অর্থ উত্তোলন করেছেন।
শাখাগুলোতে গ্রাহকদের ভিড়
ঢাকার গুলশান, মহাখালী, বনানী ও মতিঝিল এলাকার একাধিক শাখা ঘুরে দেখা গেছে, গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে শাখাগুলোতে পর্যাপ্ত অর্থের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সকাল থেকেই টাকা উত্তোলনের জন্য অনেক গ্রাহক শাখায় উপস্থিত হন।
কিছু শাখায় কর্মকর্তারা গ্রাহকদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। যেসব গ্রাহক নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করেছিলেন, তাঁদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
একীভূত হওয়া ইউনিয়ন ব্যাংকের উত্তরা শাখার ব্যবস্থাপক এ বি এম মোকাররম মাহমুদ জানান, প্রথম দিনে আটজন গ্রাহক টাকা তোলার জন্য আবেদন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে চারজন টাকা উত্তোলন করেছেন। অন্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া যেসব গ্রাহকের মুনাফার অর্থ জমা রয়েছে, তাঁরাও তা উত্তোলন করতে পারছেন।
কেন একীভূত করা হলো পাঁচ ব্যাংক
২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংকটে থাকা পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ব্যাংকগুলোর আর্থিক দুর্বলতা ও ঋণ অনিয়মের কারণে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক আগে এস আলমের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অন্যদিকে এক্সিম ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের হাতে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা নিরীক্ষা-তথ্য অনুযায়ী, একীভূত পাঁচ ব্যাংকের ঋণের বড় একটি অংশ অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছিল। এর ফলে ব্যাংকগুলো গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়ে এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে সমস্যায় পড়ে।
একপর্যায়ে আগের মালিকদের শেয়ারমূল্য শূন্য ঘোষণা করে ব্যাংকগুলোর মালিকানা সরকারের হাতে নেওয়া হয়। এরপর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
