
নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক রিপোর্ট
দেশজুড়ে সবুজায়ন কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করতে বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে অন্তত একটি করে গাছ রোপণের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা যে গাছ লাগাবে তার তথ্য সংরক্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন গাছের চারাও সরবরাহ করা হবে।
রোববার (৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা উপযুক্ত খোলা স্থানে একটি করে গাছ লাগাতে পারে। এ উদ্যোগকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হবে, যাতে প্রতিটি স্কুল ও কলেজে লাগানো গাছের আলাদা তালিকা সংরক্ষণ করা যায়।
তিনি বলেন, বর্ষাকাল গাছ লাগানোর সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এ সময়ে রোপণ করা গাছ সহজেই বেড়ে ওঠে। তাই শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আমিনুল হক আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করে তুলবে এবং সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি নাগরিক, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না; ভবিষ্যতে ফল, ছায়া, ঔষধি উপকারিতাসহ নানা ধরনের সুফল বয়ে আনে। তাই প্রতিটি শিক্ষার্থী যদি একটি করে গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যা করে, তাহলে সারাদেশে বড় ধরনের সবুজায়ন সম্ভব হবে।
তিনি শিক্ষকদেরও আহ্বান জানান, পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করতে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শত শত গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং এ কর্মসূচিতে সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হবে।
আরাফাতের ময়দানের ঐতিহাসিক নিমগাছের উদাহরণ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষের কল্যাণে দীর্ঘদিন ধরে উপকার করে এমন গাছ রোপণ করা একটি মহৎ উদ্যোগ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আজই বেশি বেশি গাছ লাগানোর বিকল্প নেই।