হারানো, চুরি বা নষ্ট হয়ে যাওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে নির্ধারিত ফির বাইরে কোনো অতিরিক্ত দণ্ড ফি দিতে হবে না। তবে দ্বিতীয়বার থেকে প্রতিবার একই ঘটনা ঘটলে নির্ধারিত ফির সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি দিতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে ২১ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়। এতে হারানো, চুরি বা নষ্ট পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর বিষয়ে মোট ১২টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রটি জারির তারিখ থেকেই কার্যকর হয়েছে।
অনলাইনে রিপোর্ট ও জিডি বাধ্যতামূলক
পরিপত্র অনুযায়ী, পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার বিষয়টি দ্রুত বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা অনলাইন ব্যবস্থায় রিপোর্ট করতে হবে। পাশাপাশি নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে।
থানা জিডির তথ্য যাচাই করে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে পাঠাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন পাওয়া না গেলেও জিডির কপি দিয়ে পুনঃইস্যুর আবেদন করা যাবে। এরপর প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে নতুন পাসপোর্ট দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
বিদেশে পাসপোর্ট হারালে
বিদেশে অবস্থানকালে পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হলে অনলাইনে রিপোর্ট করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটকে জানাতে হবে। সংশ্লিষ্ট মিশন প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নতুন পাসপোর্ট ইস্যুর ব্যবস্থা করবে।
পাওয়া গেলেও বাতিল পাসপোর্ট ব্যবহার করা যাবে না
হারানো বা চুরি হিসেবে রিপোর্ট করার পর কোনো পাসপোর্ট বাতিল হলে পরে সেটি পাওয়া গেলেও আর সক্রিয় করা বা বিদেশ ভ্রমণে ব্যবহার করা যাবে না। এমন পাসপোর্ট পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর নির্দেশনা রয়েছে।
নতুন পাসপোর্ট ইস্যুর সময় আগের পাসপোর্ট হারানো বা বাতিল হওয়ার তথ্য ডেটাবেজে হালনাগাদ করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট তথ্য পুলিশের ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাকে অবহিত করা হবে।
জরিমানার নতুন নিয়ম এক নজরে
প্রথমবার: নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি, অতিরিক্ত দণ্ড ফি নেই।
দ্বিতীয়বার থেকে: নির্ধারিত ফির সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি।
