পাকিস্তানের জনপ্রিয় টিকটক কনটেন্ট ক্রিয়েটর শামসো বিবি, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আয়েশা গিলামানা’ নামে পরিচিত ছিলেন, গুলিতে নিহত হয়েছেন। ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের ট্যাক্সিলার কাছে এ ঘটনা ঘটে। তাঁর পরিবারের করা অভিযোগ অনুযায়ী, গাড়িতে ভাই-বোনদের সঙ্গে যাওয়ার সময় দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি মোটরসাইকেল থেকে গুলি চালায়।

পরিবারের দাবি, শামসো বিবির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৩ লাখের বেশি অনুসারী ছিল। তিনি প্রায় তিন থেকে চার বছর ধরে টিকটকে কনটেন্ট তৈরি করছিলেন। তাঁর ভাই রহমতুল্লাহ জানান, মৃত্যুর আগে তাঁর অ্যাকাউন্টে ৩ কোটির বেশি লাইক জমা হয়েছিল। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়।

ফোন পাওয়ার পর বাড়ি থেকে বের হন

পুলিশে দায়ের করা অভিযোগে শামসো বিবির বাবা ফজল সাহেবজাদা জানান, ঘটনার দিন তাঁর মেয়ে কাশিফ নামে এক ব্যক্তির ফোন পান। ওই ব্যক্তি তাঁকে বাড়ির বাইরে আসতে বলেন।

এরপর শামসো বিবি তাঁর ১৫ বছর বয়সী বোন আসিমা ও ভাই নাঈমাতুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে বের হন। ট্যাক্সিলার কাছে একটি পেট্রোল পাম্পের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে থাকা দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি গাড়িটিতে গুলি চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, একটি গুলি শামসো বিবির ঘাড়ে লাগে এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। গুলির পর গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অন্য একটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে তাঁর বোন আসিমা গুরুতর আহত হন।

আর্থিক বিরোধের অভিযোগ

শামসো বিবির বাবা পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ের কাউসার ও জাভেদ নামে দুই ব্যক্তির সঙ্গে আর্থিক লেনদেন ছিল। তাঁদের কাছ থেকে অর্থ ফেরত চাওয়া নিয়ে হুমকি পাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে এর আগে ইসলামাবাদে লিখিত অভিযোগও করা হয়েছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওই ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি।

হত্যা মামলা, চলছে তদন্ত

শামসো বিবির বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যা মামলা দায়ের করেছে। তদন্তকারীরা হামলাকারীদের শনাক্ত করা, হত্যার কারণ নির্ধারণ এবং ঘটনার আগে পাওয়া ফোনকল ও কথিত আর্থিক বিরোধ খতিয়ে দেখছেন।

পরিবারের অভিযোগ ও বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি সামনে এসেছে। পুলিশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার প্রকৃত কারণ ও কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version