নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) এক নবীন শিক্ষার্থীকে র্যাগিং ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের ঘটনায় ১৩ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জামাল হোসাইনের স্বাক্ষর করা এক অফিস আদেশে এ শাস্তির কথা জানানো হয়। শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিজয়-২৪ হলের আবাসিক।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্তদের কাউকে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা, কাউকে এক সেমিস্টার থেকে এক বছর পর্যন্ত হল ও ক্লাস থেকে বহিষ্কার এবং অভিভাবকের উপস্থিতিতে মুচলেকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধে জড়ালে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারেরও সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত ১৯ আগস্ট রাতে বিজয়-২৪ হলের কমনরুমে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদের নবীন শিক্ষার্থী হাবিবকে র্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর হাবিব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পর বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট মাসুদুর রহমানকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে র্যাগিংয়ের পরিকল্পনা, নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণের পাশাপাশি নবীন শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৩ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জামাল হোসাইন জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ ও মুচলেকা না দিলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নির্ধারিত শাস্তি কার্যকর করা হবে।
