ভারতের চেন্নাইয়ে ছিনতাই করতে গিয়ে এক তরুণের পকেটে টাকা না পেয়ে তাঁকে জোর করে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ঋণ নিতে বাধ্য করেছে একটি ছিনতাইকারী দল। পরে ঋণের টাকা এটিএম বুথ থেকে তুলে নিয়ে ওই তরুণের মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয় তারা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের চেন্নাইয়ের পল্লিকরনাই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী তরুণের নাম অজয়। তাঁর বয়স ২১ বছর।
টাকা না পেয়ে মারধর, পরে ঋণ নিতে বাধ্য
পুলিশের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চেন্নাইয়ের দক্ষিণাঞ্চলের পল্লিকরনাই এলাকায় অবস্থান করার সময় অজয়কে লক্ষ্য করে চারজনের একটি দল। তাঁকে জোর করে একটি অটোরিকশায় তুলে সঙ্গে থাকা টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র দিতে বলে তারা।
কিন্তু অজয়ের কাছে নগদ টাকা বা মূল্যবান কোনো সামগ্রী না থাকায় ছিনতাইকারীরা তাঁকে মারধর করে। এরপর তাঁকে মোবাইল ফোনে একটি ঋণ দেওয়ার অ্যাপ ব্যবহার করে ঋণের আবেদন করতে বাধ্য করা হয়।
ঋণ অনুমোদনের পর এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন
অজয়ের আবেদন করার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঋণ অনুমোদিত হয়। এরপর তাঁকে কাছাকাছি একটি এটিএম বুথে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
সেখান থেকে সদ্য অনুমোদিত ঋণের ৯ হাজার ৫০০ রুপি তুলে নেয় তারা। পরে অজয়কে ছেড়ে দিলেও তাঁর কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় দলটি।
চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ
ঘটনার পর পল্লিকরনাই থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী। তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্ত চারজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সাই আবুথাকির ওরফে আবু (১৮), প্রকাশ রাজ (২২), পুবালান (২৩) এবং সঞ্জয় (২১)। তাঁদের সবার বাড়ি চেন্নাইয়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার চারজনকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবহৃত অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলছে।
মোবাইল অ্যাপে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি
প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবার পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে প্রতারণা ও জবরদস্তির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। এ ঘটনায় তরুণকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে ঋণ নিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্থিক অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। তবে জোরপূর্বক ঋণ নেওয়ানোর মতো অপরাধের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
