নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা

রাজধানীর ধানমন্ডিতে স্বর্ণ বিক্রির কথা বলে এক ব্যক্তিকে ডেকে এনে অস্ত্রের মুখে ৩৮ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত তিন সদস্য রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন অতীতে র‍্যাবেও কর্মরত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।

পুলিশ জানায়, গত ৩০ আগস্ট দুপুরে ধানমন্ডি মডেল থানার ১২ নম্বর সড়কে ডিঙ্গি রেস্টুরেন্টের সামনে খোরশেদ আলম নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে ৩৮ লাখ টাকা লুট করে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল। স্বর্ণ কেনার জন্য টাকা নিয়ে চক্রের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন খোরশেদ।

ঘটনার সময় ডাকাত দলের সদস্যরা একটি রিকশার গতিরোধ করে খোরশেদকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে তাঁকে মারধর করে কয়েকজন মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরপরই ধানমন্ডি মডেল থানা পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তানভীর আহমেদ জুয়েল ও মো. মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে চার রাউন্ড গুলিসহ একটি দেশীয় রিভলভার উদ্ধার করা হয়।

পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পটুয়াখালী, কুয়াকাটা বাসস্ট্যান্ড, মোহাম্মদপুর ও বায়তুল মোকাররমসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—তানভীর আবেদীন (৪১), মো. মুজিবুর রহমান (৬০), মো. জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকির (৬০), মো. সোলায়মান মৃধা (৫৫), মোহাম্মদ কবির হোসেন (৫০), আবুল কালাম আজাদ (৫০), মো. জাকারিয়া হোসেন ওরফে লেলিন (৪০), সজল চৌধুরী (৩১) ও সায়মুন চৌধুরী (৩৩)।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার জাকারিয়া হোসেন ওরফে লেলিনের কাছ থেকে লুট হওয়া ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৩৫০ টাকা এবং সজল চৌধুরীর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এ ঘটনায় ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫০ টাকা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।

যেভাবে ডাকাতির পরিকল্পনা

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, চক্রটির কয়েকজন সদস্য স্বর্ণ কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা স্বর্ণ কেনার আগ্রহী ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের কাছে স্বর্ণ রয়েছে বলে প্রস্তাব দেন। ক্রেতাকে স্বর্ণ কেনার জন্য টাকা নিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে আসতে বলা হতো।

খোরশেদ আলমও একইভাবে চক্রটির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। স্বর্ণের লেনদেনের কথা বলে তাঁকে ধানমন্ডির একটি স্থানে নিয়ে আসা হয়। পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁকে রিকশাযোগে ডিঙ্গি রেস্টুরেন্টের সামনে নেওয়া হয়।

পুলিশের দাবি, ওই এলাকায় আগে থেকেই লেলিনের নেতৃত্বে চার-পাঁচজন অবস্থান করছিল। নির্দিষ্ট সংকেত পাওয়ার পর অন্য সদস্যরা রিকশাটির গতিরোধ করেন। এরপর অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে খোরশেদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে কয়েকজন মোটরসাইকেলে করে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

সাবেক তিন সেনাসদস্য

ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ৯ জনের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য। তাঁরা হলেন মো. মুজিবুর রহমান, মো. জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকির এবং মো. সোলায়মান মৃধা।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মুজিবুর রহমান সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট পদ থেকে অবসর নেন। জাকির হোসেন অনারারি ক্যাপ্টেন পদ থেকে এবং সোলায়মান মৃধা সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন আগে র‍্যাবেও কর্মরত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিএমপি আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন মামলা রয়েছে। তানভীর আহমেদ জুয়েলের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের চারটি মামলা, সজল চৌধুরীর বিরুদ্ধে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ছয়টি মামলা এবং জাকারিয়া হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক ও হত্যা বা হত্যাচেষ্টার দুটি মামলা রয়েছে। আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধেও তিনটি মামলা রয়েছে।

এ ঘটনায় ধানমন্ডি মডেল থানায় ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা করা হয়েছে। পলাতক ও অজ্ঞাতনামা অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version