ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব নাগরিকের সমান অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকারের অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর ধানমণ্ডিতে সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, বাংলাদেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের দেশ। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার সমুন্নত রাখা এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এ বছর পূজা উপলক্ষে সরকারি অনুদান ও ছুটিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। গুজব, অপপ্রচার ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যাতে কেউ ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মানুষের ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও দেশ ও জাতীয় পরিচয় অভিন্ন। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। দেশের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য যেকোনো মূল্যে অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীম এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির অর্থনৈতিক বিষয়ক সহসম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন। এ ছাড়া পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা, সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
