বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সফরের আগে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ ঢাকার কয়েকটি দাবিকে কঠিন শর্ত হিসেবে দেখছে ভারতের কিছু প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম। তবে সরকারি পর্যায়ে এখনো সফর বাতিল বা স্থগিতের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। ভারত ও বাংলাদেশ সফরের সময়সূচি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি সম্ভাব্য সফরের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, এই ইস্যুতে অগ্রগতি না হলে দ্বিপক্ষীয় সফরের সময়সূচি জটিল হতে পারে।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকার অবস্থান
বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে সফর নিয়ে আলোচনা চললেও একটি অনুকূল ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা। ভারতের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত অনুরোধ দেশটির প্রচলিত আইনি কাঠামোর আওতায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এর আগে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতকে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্রুত করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়।
ভারত সফরের আমন্ত্রণ বহাল
তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য ভারতের আমন্ত্রণ বহাল রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফরের সময়সূচি নিয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, সম্ভাব্য সফর নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন, যদিও এখনো চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হয়নি।
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন সমীকরণ
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক কূটনীতি—সব মিলিয়ে সম্ভাব্য সফরটি দুই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, আলোচনার মাধ্যমে এসব ইস্যুতে সমঝোতা না হলে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের অগ্রগতিতে সাময়িক জটিলতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে উভয় দেশই যোগাযোগ ও উচ্চপর্যায়ের সংলাপ চালু রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

