আগামী ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরতে চান ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভাপতি কয়েক দফায় দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। ঝুঁকি ও প্রতিকূল পরিস্থিতি থাকলেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে তার এই ঘোষণার বাস্তবায়ন নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা।
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আইনি জটিলতা। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি প্রকাশ্যে সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছে না। বিচ্ছিন্ন ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে দলটির নেতাকর্মীরা নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এ ছাড়া বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থানও শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মৃত্যুদণ্ডের রায় ও শতাধিক মামলার জটিলতা
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পথে অন্যতম বড় বাধা তার বিরুদ্ধে থাকা আইনি জটিলতা। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০২৫ সালে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। এ ছাড়া হত্যা ও অন্যান্য অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
ফলে দেশে ফিরলে তাকে এসব মামলার আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। শেখ হাসিনা অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও বিচারের বৈধতা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ভারত কি শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাবে?
শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় একাধিকবার আবেদন করেছে বাংলাদেশ। তবে এখন পর্যন্ত তাকে দেশে ফেরানো সম্ভব হয়নি।
প্রত্যর্পণ চুক্তিতে কিছু নির্দিষ্ট কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের বিষয়টিও রয়েছে। সাবেক কূটনীতিকদের কারও কারও ধারণা, ভারত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে ফেরত দিতে আগ্রহী নয়।
অন্যদিকে, ভারত থেকে প্রত্যর্পণের মাধ্যমে দেশে ফেরা সম্ভব না হলে বিকল্প পথ হতে পারে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করা। তবে এ ধরনের আবেদন করা হলে সরকার সেটি অনুমোদন করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
আওয়ামী লীগ নেতারা যা বলছেন
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি পরিবার, ভারতের সংশ্লিষ্ট মহল এবং দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
দলটির নেতাদের কেউ কেউ মনে করেন, দেশে ফেরার প্রক্রিয়া ও বিকল্প পরিকল্পনাও তিনি ঠিক করে রেখেছেন। আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাতও জানিয়েছেন, ঝুঁকি থাকলেও ডিসেম্বরেই দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা।
তবে শেখ হাসিনা কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় এবং ঠিক কবে দেশে ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
ডিসেম্বর ঘিরে রাজনৈতিক সতর্কতা
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকারের নীতিনির্ধারকদের অনেকে মনে করছেন, আওয়ামী লীগের গোপন তৎপরতা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে। এ কারণে ডিসেম্বরকে সামনে রেখে সতর্ক থাকার কথা বলছেন তারা।
সরকারের দৃষ্টিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তারা কাজ করছেন।
সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার ডিসেম্বরের প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তার দেশে ফেরা কতটা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করছে আইনি প্রক্রিয়া, বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্ত এবং ভারতের অবস্থানের ওপর। ডিসেম্বর যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বিষয়টি ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচনা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

