ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও আদালতে উপস্থিত হননি পরীমনি। এ কারণে তার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান।
ওই দিন পরীমনির আইনজীবী আদালতে সময়ের আবেদন করে জানান, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে তার মক্কেল আদালতে হাজির হতে পারেননি। তবে বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
পরোয়ানা জারির একদিন পর বৃহস্পতিবার সকালে প্রায় ১০ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী নিয়ে আদালতে হাজির হন পরীমনি। বেলা ১১টার দিকে একটি সাদা গাড়িতে আদালত প্রাঙ্গণে অপেক্ষা করতে দেখা যায় তাকে। এ সময় তার নিরাপত্তাকর্মীরা গাড়ির আশপাশে অবস্থান নেন। পরীমনির উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে আদালত এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
যেভাবে শুরু মামলার বিচার
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা এ মামলায় ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি পরীমনিসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। সেদিনও পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।
মামলার তদন্ত শেষে ২০২৪ সালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিবেদন দেয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
মামলার অভিযোগ
২০২১ সালের ৬ জুলাই বোট ক্লাবের তৎকালীন সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। অন্য দুই আসামি হলেন ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি এবং জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে সাভারের বোট ক্লাবে গিয়ে পরীমনি ও তার সহযোগীদের সঙ্গে নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরোধ হয়। একপর্যায়ে তাকে গালমন্দ ও মারধরের পাশাপাশি সার্ভিং গ্লাস এবং মোবাইল ফোন ছুড়ে মারা হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী। এতে তার মাথা ও বুকে আঘাত লাগে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে ক্লাবে ভাঙচুর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়।
শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার পরীমনির জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।

