নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে আন্দোলনে যোগ দিতে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন বদিউজ্জামান। বিকেলে তাঁর স্ত্রী আদুরী খাতুনকে হাসপাতালে যেতে বলেন দেবর। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, হাসপাতালের বারান্দায় ট্রলির ওপর পড়ে আছে তাঁর স্বামীর মরদেহ।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার সময় এ কথা বলেন আদুরী খাতুন। এ মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ জন আসামি রয়েছেন।

আদুরী খাতুন জানান, তাঁর স্বামী বদিউজ্জামান নারায়ণগঞ্জের নিট কনসার্ন গ্রুপে চাকরি করতেন। তিনি নিজেও নারায়ণগঞ্জের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। ২০১৩ সাল থেকে স্বামীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের এসিআই পানির কল এলাকায় বসবাস করতেন তাঁরা।

সাক্ষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে নাশতা শেষে বদিউজ্জামান আন্দোলনে যোগ দিতে চাষাড়ার দিকে যান। বিকেল পাঁচটার দিকে তাঁর দেবর ফোন করে তাঁকে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে যেতে বলেন।

আদুরী খাতুন বলেন, হাসপাতালে গিয়ে তিনি দেখেন, তাঁর স্বামী মারা গেছেন। মরদেহটি হাসপাতালের বারান্দায় একটি ট্রলির ওপর রাখা ছিল।

তাঁর অভিযোগ, সেখানে উপস্থিত শামীম ওসমানের লোকজন দ্রুত মরদেহটি হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেন। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাসায় নিয়ে যান এবং এরপর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করেন।

স্বামীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলেও ট্রাইব্যুনালে জানান আদুরী খাতুন। তাঁর ভাষ্য, পরে আত্মীয়স্বজন, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন তথ্য থেকে তিনি জানতে পারেন, শামীম ওসমান ও তাঁর অনুসারীরা বদিউজ্জামানকে মারধর করে হত্যা করেছেন।

সাক্ষ্যে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্ট সকালে চাষাড়া গোলচত্বরের সামনে বদিউজ্জামানকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এ ঘটনায় শামীম ওসমান, আজমেরী ওসমান, অয়ন ওসমান, টিপুসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী জড়িত ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।

স্বামী হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেন আদুরী খাতুন।

মামলায় ১২ আসামি

এ মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তাঁর ছেলে অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, মো. মিনহাজ উদ্দিন আহম্মদ, তানভির আহম্মেদসহ ১২ জন আসামি রয়েছেন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, সব আসামিই বর্তমানে পলাতক।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version