বাণিজ্য ডেস্ক
বিশ্ববাজারে টানা ছয় দিন ধরে কমছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। বুধবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ৪৩ ডলারে নেমেছে। এর মাধ্যমে গত বছরের আগস্টের পর প্রথমবার টানা ছয় দিন তেলের দাম কমার ধারা দেখা গেল।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই (WTI) তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমেছে। গত পাঁচ দিনে এই তেলের দাম ১০ শতাংশের বেশি কমেছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমার পেছনে সৌদি আরবের একটি ঘোষণাও প্রভাব ফেলেছে। দেশটি পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন পুনরায় চালু করা এবং লোহিত সাগর উপকূল দিয়ে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি শুরু করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।
তবে বাজারে অনিশ্চয়তাও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে তেলের দাম আবার বাড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন ও রপ্তানি অবকাঠামোতে হামলার আশঙ্কাকেই বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এক লিটার অপরিশোধিত তেলের দাম কত?
এক ব্যারেলে ১৫৯ লিটার তেল থাকে। ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ৪৩ ডলার হিসেবে হিসাব করলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের প্রতি লিটারের দাম দাঁড়ায় প্রায় ৬২ সেন্ট। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর দাম প্রায় ৭৬ টাকা।
তবে এই ৭৬ টাকা বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ডিজেল, অকটেন বা অন্যান্য জ্বালানির খুচরা দাম নয়। অপরিশোধিত তেলের সঙ্গে পরিবহন, বিমা, বন্দর, পরিশোধন, সংরক্ষণ, সরবরাহ এবং সরকারি শুল্ক-কর যুক্ত হয়ে দেশে চূড়ান্ত দাম নির্ধারিত হয়।
বাংলাদেশের নিজস্ব তেল পরিশোধন সক্ষমতাও সীমিত। দেশে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন তেল পরিশোধন করা সম্ভব হলেও প্রায় ৭০ লাখ টন তেল আমদানি করতে হয়। ফলে বড় একটি অংশ পরিশোধিত তেল হিসেবেও আমদানি করতে হয়।
