গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ঘিরে আলোচনায় আসা শাহজালাল রুমির বর্তমান অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তাঁর পরিবারের ব্যবহৃত ফ্ল্যাটটি তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক, শ্বশুর ও পুলিশের বক্তব্যেও তিনি বর্তমানে কোথায় আছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে গিয়ে রুমির পরিবারের ব্যবহৃত ফ্ল্যাটটি তালাবদ্ধ দেখতে পান সাংবাদিকেরা।

বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার গত শুক্রবার থেকে ওই বাসায় নেই। শাহজালাল রুমি মাঝেমধ্যে সেখানে আসতেন। তবে বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন, তা তাঁর জানা নেই।

দেশে নেই বলে সাংবাদিককে বার্তা রুমির

শাহজালাল রুমির শ্বশুর মোকারম আলীও তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তিনি জানান, রুমি দেশে আছেন নাকি বিদেশে, তা তিনি জানেন না। তাঁরাও আগের বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।

তবে সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে হোয়াটসঅ্যাপে সাংবাদিকদের পাঠানো এক বার্তায় রুমি দাবি করেন, তিনি আর বাংলাদেশে নেই। বার্তায় তিনি লেখেন, “ভাই আমি এই দেশেই আর নাই, সুতরাং আমি এগুলো নিয়ে আর ভাবছি না; যা হয় হোক। আপনারা সবাই ভালো থাকবেন।”

এদিকে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, রুমি দেশে নাকি বিদেশে আছেন, তা তাঁর জানা নেই। তবে তাঁর বাসায় গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। শিশুটিকে চুমু দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি তিনি।

সাত বছরের শিশুকে নিপীড়নের অভিযোগ

গত ২১ অক্টোবর টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ক্বরিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদ্রাসার সাত বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনকে মারধরের পর পুলিশের হাতে তুলে দেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে রুমি টঙ্গী পশ্চিম থানায় শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেন।

পাল্টা মামলার পর থেকে অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা

শিশুটির বাবার করা মামলার পর মাদ্রাসার অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে রুমির বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করা হয়। ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ১৭ লাখ টাকা চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।

এরপর থেকেই রুমির অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। তবে তিনি কোথায় আছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে দুই মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version