কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে জালমহাল নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রদলের এক নেতার চীনা কুড়াল হাতে থাকার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি সৈয়দ তৌকির। তিনি অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বিলমাকশা জালমহাল নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সৈয়দ সাঈদ আহমেদ ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহিনের অনুসারীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। এর জেরে গত শুক্রবার পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের আখড়া বাজার এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সংঘর্ষের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সৈয়দ তৌকিরকে চীনা কুড়াল হাতে দেখা যায়। এ ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে তৌকির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, সংঘর্ষ থামানোর উদ্দেশ্যে তিনি অন্য একজনের হাত থেকে কুড়ালটি নিয়ে প্রতিপক্ষের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন।
ঘটনার বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আল মাহমুদ মোস্তাক বলেন, বিষয়টি সত্য এবং তারা এ সম্পর্কে অবগত। তবে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি।
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেল জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করে তিনি ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। পরে জেলা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। সংগঠন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরীফুল ইসলাম নিশাদ বলেন, সৈয়দ তৌকিরকে ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে তার হাতে চীনা কুড়াল ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তিনি পাননি। অভিযোগ পাওয়া গেলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের পক্ষ থেকে তৌকিরের বিরুদ্ধে বালু উত্তোলন, মামলা-মোকদ্দমা ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়েছে। অনলাইন জুয়ার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৌকির।
