নিজস্ব প্রতিবেদক

জন্ম থেকেই দৃষ্টিহীন। তারপরও থেমে থাকেননি শামসুল ইসলাম। প্রযুক্তির সহায়তায় নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন, শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন এবং প্রয়োজন হলে কম্পিউটার ও প্রজেক্টর ব্যবহার করে পাঠদান করছেন। ৩৫ বছর বয়সী শামসুল ইসলাম বর্তমানে নেত্রকোনা সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক।

জামালপুর সদর উপজেলার রণরামপুর গ্রামের কৃষক মো. মোবারক আলী ও গৃহিণী মরহুমা সাজেদা খাতুনের ছয় সন্তানের মধ্যে তৃতীয় শামসুল ইসলাম। জন্মের পর থেকেই তিনি দৃষ্টিহীন। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েও দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাননি।

পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যান শামসুল। ঢাকার একটি মিশনারি স্কুলে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর ভর্তি হন ময়মনসিংহ এডওয়ার্ড ইনস্টিটিউশনে। সেখান থেকে ২০০৬ সালে এসএসসি পাস করেন। পরে ময়মনসিংহ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজে উচ্চমাধ্যমিক শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১২ সালে ৩.২৯ সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক এবং পরের বছর ৩.৭৬ সিজিপিএ নিয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন শামসুল ইসলাম।

বিসিএস পেরিয়ে শিক্ষকতা

৩৬তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে ইতিহাস বিষয়ে তৃতীয় হন শামসুল ইসলাম। ২০১৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর হবিগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। সেখানে চার বছর শিক্ষকতার পর ২০২২ সালের ২৮ আগস্ট থেকে নেত্রকোনা সরকারি কলেজে কর্মরত আছেন।

বিসিএসের প্রস্তুতিও ছিল তাঁর জন্য আলাদা। বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনিয়র শিক্ষার্থীরা বই পড়ে তাঁকে শোনাতেন এবং রেকর্ড করে দিতেন। পরে কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনে সেই রেকর্ড শুনে পড়াশোনা করতেন তিনি। লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন ডিক্টেশন মেশিনের মাধ্যমে।

শামসুল ইসলাম জানান, তাঁর দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের পথটি সহজ ছিল না। বড় ভাই কামরুল হাসানসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা তাঁর পড়াশোনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পাঠদান

প্রতিদিন তিন থেকে চারটি ক্লাস নেন শামসুল ইসলাম। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উত্তর দেন। পাঠ আরও সহজবোধ্য করতে কম্পিউটার ও প্রজেক্টরও ব্যবহার করেন তিনি।

নেত্রকোনা সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. কবির উদ্দিন বলেন, শামসুল ইসলামকে তাঁর দৃষ্টিশক্তির সীমাবদ্ধতা দিয়ে বিচার করা হয় না। তিনি যেভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করেন, তাতে অনেক সময় মনে হয় সহযোগিতা নেওয়ার চেয়ে তাঁর কাছ থেকেই সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা শিখছেন।

পরিবারেও স্বাবলম্বী

২০১২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পাশের গ্রামের শ্রীপুর কুমারিয়া এলাকার আস্মা খাতুনকে বিয়ে করেন শামসুল ইসলাম। তাঁদের তিন ছেলে।

স্ত্রী আস্মা খাতুনের ভাষ্য, শামসুল ইসলাম নিজের বেশির ভাগ দৈনন্দিন কাজ নিজেই করতে পারেন। সন্তানদের প্রয়োজনীয় অনেক কাজও তিনি নিজেই করেন। তাঁর মতে, চোখে না দেখলেও শামসুল তাঁর মেধা, চিন্তাশক্তি ও ইতিবাচক মানসিকতার মাধ্যমে চারপাশকে নিজের মতো করে উপলব্ধি করেন।

জন্মগত দৃষ্টিহীনতা শামসুল ইসলামের কাছে থেমে যাওয়ার কারণ নয়। বরং প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তি

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version