ডিজিটাল লেনদেনকে বাস্তব বৃক্ষরোপণের সঙ্গে যুক্ত করে খুলনায় শুরু হয়েছে ‘বিকাশ বন’ উদ্যোগের নতুন বনায়ন কর্মসূচি। খুলনা সিটি করপোরেশন ও মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের যৌথ উদ্যোগে নগরীর সোলার পার্ক ও লিনিয়ার পার্কে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় ধারাবাহিকভাবে খুলনায় ২৫ হাজার গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
২৭ সেপ্টেম্বর সোলার পার্ক এলাকায় গাছ লাগিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। অনুষ্ঠানে খুলনা সিটি করপোরেশন, বন বিভাগ ও বিকাশের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
‘বিকাশ বন’ উদ্যোগে গ্রাহকদের ডিজিটাল লেনদেনের সঙ্গে বৃক্ষরোপণকে যুক্ত করা হয়েছে। বিকাশ অ্যাপে নির্দিষ্ট লেনদেনের মাধ্যমে গ্রাহকরা ‘গ্রিন পয়েন্ট’ অর্জন করবেন। এসব পয়েন্ট জমে অ্যাপের ভার্চুয়াল গাছ পূর্ণাঙ্গ হলে তার বিপরীতে বাস্তবে একটি গাছ রোপণ করবে বিকাশ। পরবর্তীতে গ্রাহক অ্যাপের মাধ্যমে সেই বাস্তব গাছের তথ্যও দেখতে পারবেন।
বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ, ডিপিএস খোলা, টাকা যোগ করা, ঋণ নেওয়া, মোবাইল রিচার্জ ও টাকা পাঠানোর মতো নির্ধারিত ডিজিটাল লেনদেন থেকে গ্রিন পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি কোন এলাকায় কোন ধরনের গাছ লাগানো হবে এবং কীভাবে সেগুলোর পরিচর্যা করা হবে, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি পরিবেশ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দক্ষিণাঞ্চলে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা জরুরি। খুলনা ও উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ সুরক্ষায় এ ধরনের বনায়ন কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর বিকাশ ‘বিকাশ বন’ নামে এই গ্রিন ফিচার চালুর ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ছিল গ্রাহকদের দৈনন্দিন ডিজিটাল লেনদেনকে বাস্তব বৃক্ষরোপণের সঙ্গে যুক্ত করে পরিবেশ সংরক্ষণে অংশগ্রহণ বাড়ানো।
