স্পোর্টস ডেস্ক
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে টানা দুই ম্যাচ হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেটে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। সিরিজের মাঝপথে দল থেকে সাত ক্রিকেটার ও দুই কোচকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে এ ধরনের ঘন ঘন পরিবর্তনের মাধ্যমে পাকিস্তান ক্রিকেটের মূল সমস্যার সমাধান হবে না বলে মনে করেন সাবেক অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক।
ডুনিয়া নিউজের এক পডকাস্টে পাকিস্তান ক্রিকেটের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মিসবাহ বলেন, চাপের মুখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং বারবার পরিবর্তন আনা কার্যকর সমাধান নয়। তাঁর মতে, প্রয়োজন স্থিরতা, ধারাবাহিকতা এবং সমস্যার সঠিক বিশ্লেষণ।
মিসবাহ বলেন, ‘কসমেটিক সার্জারি’ করে কোনো লাভ নেই। অর্থাৎ শুধু কয়েকজন খেলোয়াড় বা কোচ বদলে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। বরং কেন দল ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হচ্ছে, তা বিশ্লেষণ করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে।
পাকিস্তানের হয়ে খেলোয়াড় ও কোচ—দুই ভূমিকাতেই কাজ করা মিসবাহ বলেন, সংকটের সময়ে আতঙ্কিত না হয়ে দল হিসেবে কাজ করা জরুরি। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা থাকা দরকার এবং পারফরম্যান্স খারাপ হলেই তাৎক্ষণিকভাবে বড় পরিবর্তন আনা উচিত নয়।
পাকিস্তান ক্রিকেটে এমন পরিস্থিতিতে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের উদাহরণও দেন মিসবাহ। তাঁর মতে, ভালো বা খারাপ সময়—দুই ক্ষেত্রেই এসব দল নিজেদের পরিকল্পনা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়, কিন্তু চাপের মুখে হঠাৎ করে পুরো কাঠামো বদলে ফেলে না।
মিসবাহ বলেন, সমর্থক, গণমাধ্যম ও সমালোচকদের চাপ থাকলেও দলকে নিজেদের পরিকল্পনায় আস্থা রাখতে হবে। তাঁর ভাষায়, পারফরম্যান্সে ওঠানামা থাকতেই পারে, কিন্তু সমালোচনার কারণে বারবার পরিকল্পনা পরিবর্তন করা উচিত নয়।
পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে তিনি ‘তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা’কে চিহ্নিত করেছেন। এমন সিদ্ধান্তের ফলে অনেক সময় যে বিষয়টি আসলে ভাঙেনি, সেটিও নষ্ট হয়ে যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের পারফরম্যান্সও হতাশাজনক। হেডিংলিতে ইনিংস ব্যবধানে এবং লর্ডসে ১৯৪ রানে হেরে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে আছে পাকিস্তান। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে।
মিসবাহ ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর পাকিস্তান দলের প্রধান কোচ ও নির্বাচকের দায়িত্বও পালন করেছেন। লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯৪ রানের হারের সময় তিনি নির্বাচক ছিলেন। পরে পিসিবির বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরে তিনি পদত্যাগ করেন।
