বিশ্ব ডেস্ক

আজ ১৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ওজোন দিবস। পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য ও মানবজীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ওজোনস্তর রক্ষায় গত কয়েক দশকে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। তবে কিছু ক্ষতিকর গ্যাসের অনিয়ন্ত্রিত নিঃসরণ বন্ধ না হলে ওজোনস্তরের পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।

১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ওজোনস্তর ক্ষয়কারী পদার্থ নিয়ন্ত্রণে ‘মন্ট্রিয়ল প্রটোকল’ স্বাক্ষরিত হয়। এ উদ্যোগের স্মরণে ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘ ১৬ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক ওজোনস্তর সংরক্ষণ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।

কমছে অ্যান্টার্কটিকার ওজোন গহ্বর

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, গত বছর অ্যান্টার্কটিকার ওজোন গহ্বর কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম ছোট ছিল। ১৯৯২ সালে ওজোনস্তরের বড় ধরনের ক্ষয় স্পষ্ট হওয়ার পর থেকে পরিমাপ করা গহ্বরগুলোর মধ্যে এটি ছিল চতুর্থ বা পঞ্চম ক্ষুদ্রতম।

টানা দ্বিতীয় বছরও ওজোন গহ্বরের আকার ১৯৯০ থেকে ২০১০ সালের স্বাভাবিক গড়ের চেয়ে ছোট ছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি ওজোনস্তরের ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত।

ডব্লিউএমও বলছে, মন্ট্রিয়ল প্রটোকলের কার্যকর বাস্তবায়নের ফলে ওজোনস্তর পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক ওজোনস্তর ১৯৮০ সালের অবস্থায় ফিরতে পারে প্রায় ২০৪০ সালের মধ্যে। আর্কটিক অঞ্চলে সময় লাগতে পারে ২০৪৫ সাল পর্যন্ত এবং অ্যান্টার্কটিকায় ২০৬৬ সাল পর্যন্ত।

কীভাবে ওজোনস্তর রক্ষা সম্ভব হলো

মন্ট্রিয়ল প্রটোকলের মাধ্যমে ওজোনস্তর ক্ষয়কারী ক্লোরোফ্লোরোকার্বন বা সিএফসিসহ বিভিন্ন রাসায়নিকের ব্যবহার ধাপে ধাপে বন্ধ করা হয়েছে। অতীতে এসব গ্যাস ফ্রিজ, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও অগ্নিনির্বাপণ কাজে ব্যবহৃত হতো।

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো ওজোনস্তরের পুনরুদ্ধারকে বড় ধরনের পরিবেশগত সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, ২০০০ সালের পর থেকেই ওজোনস্তরের অবস্থার উন্নতি লক্ষ করা যাচ্ছে।

কেন এখনো উদ্বেগ রয়ে গেছে

মন্ট্রিয়ল প্রটোকলের সাফল্যের পরও কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত গ্যাস নিঃসরণ বিজ্ঞানীদের উদ্বিগ্ন করছে। এর মধ্যে সিএফসি-১১ ও হাইড্রোফ্লোরোকার্বন (এইচএফসি)-২৩-এর মতো গ্যাসের অতিরিক্ত নিঃসরণ উল্লেখযোগ্য।

গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, শিল্পে কাঁচামাল বা ফিডস্টক হিসেবে ব্যবহৃত রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ থেকে ক্ষতিকর গ্যাসের অতিরিক্ত নিঃসরণ অব্যাহত থাকলে মধ্য অক্ষাংশে ওজোনস্তর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে প্রায় সাত বছর পর্যন্ত দেরি হতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী এ বিলম্ব ৬ থেকে ১১ বছর পর্যন্ত হতে পারে।

ওজোনস্তর এত গুরুত্বপূর্ণ কেন

বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৯০ শতাংশ ওজোন গ্যাস ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৫ থেকে ৩৫ কিলোমিটার ওপরে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে রয়েছে। স্তরটি খুব পাতলা হলেও সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি (ইউভি) রশ্মির বড় অংশ শোষণ করে পৃথিবীর জীবজগতকে সুরক্ষা দেয়।

দীর্ঘ সময় অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে থাকলে ত্বকের ক্যানসারসহ বিভিন্ন গুরুতর রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই ওজোনস্তরের সুরক্ষা সরাসরি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ডব্লিউএমওর মতে, বায়ুমণ্ডল পর্যবেক্ষণের নিয়মিত ব্যবস্থা চালু রাখা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে সক্রিয় ওজোন পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের সংখ্যা আগের তুলনায় কমে এসেছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে পর্যবেক্ষণব্যবস্থা বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

এ বছর বিশ্ব ওজোন দিবসের প্রতিপাদ্য—‘Global Action for a Cooler Planet’।

বিজ্ঞানীদের মতে, বায়ুমণ্ডলে থাকা একটি ক্লোরিন পরমাণু ক্ষয় হওয়ার আগে এক লাখেরও বেশি ওজোন অণু ধ্বংস করতে পারে। তাই ওজোনস্তর রক্ষায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগে কোনো ধরনের শিথিলতার সুযোগ নেই।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version