কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তি ও ভৌত অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়নের পরিকল্পনা করছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটিকে আরও সংযুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই করতে চারটি স্তম্ভের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন দেশটির অবকাঠামো ও আঞ্চলিক উন্নয়নবিষয়ক সমন্বয়কারী মন্ত্রী আগস হরিমূর্তি যুধয়োনো।

৫ থেকে ৭ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অনুষ্ঠিত ‘অ্যাসোসিও ডিজিটাল অ্যান্ড এআই সামিট’-এ মূল বক্তব্যে তিনি বলেন, ডিজিটাল রূপান্তর ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন আলাদা কোনো বিষয় নয়। বরং এ দুটি একটি দেশের সামগ্রিক রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি।

এআই যুগে অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়ন জরুরি

আগস হরিমূর্তি যুধয়োনোর মতে, এআই প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, আধুনিক ডেটা সেন্টার এবং নির্ভরযোগ্য ব্রডব্যান্ড ও স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক প্রয়োজন। একই সঙ্গে মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের জন্য সড়ক, রেলপথ, সমুদ্রবন্দর এবং বিমানবন্দরের মতো ভৌত অবকাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ।

১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ার জন্য এই সমন্বিত উন্নয়ন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। রাজধানী ও বড় শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকেও প্রযুক্তি, শিক্ষা, জ্ঞান ও অর্থনৈতিক সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পরিকল্পনা, দক্ষ সংযোগ, আধুনিক পরিবহনব্যবস্থা এবং শক্তিশালী অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে আরও সংযুক্ত, সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ইন্দোনেশিয়া তৈরি করা সম্ভব।

ডিজিটাল রূপান্তরের চারটি স্তম্ভ

ইন্দোনেশিয়ার প্রযুক্তি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন এগিয়ে নিতে চারটি প্রধান দিকের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আগস হরিমূর্তি যুধয়োনো।

১. কানেক্ট স্মার্টার (Connect Smarter): আরও দ্রুত, দক্ষ ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সংযোগ বাড়ানো এবং ডিজিটাল সেবার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে।

২. প্ল্যান স্মার্টার (Plan Smarter): আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ভবিষ্যৎমুখী ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা, যাতে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী হয়।

৩. মুভ স্মার্টার (Move Smarter): নাগরিকদের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনে গতিশীলতা বাড়ানো। এ ক্ষেত্রে পরিবহনব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

৪. বিল্ড স্ট্রংগার (Build Stronger): জলবায়ু পরিবর্তন ও ভৌগোলিক প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সক্ষম এবং দীর্ঘস্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা।

এই চারটি স্তম্ভের মাধ্যমে প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর উন্নয়নকে একই পরিকল্পনার আওতায় এনে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে চায় ইন্দোনেশিয়া।

প্রযুক্তির সাফল্যে গুরুত্ব পাবে সাধারণ মানুষ

মন্ত্রী আগস হরিমূর্তি যুধয়োনো বলেন, প্রযুক্তির সাফল্য কেবল বড় ডেটা সেন্টার নির্মাণ কিংবা ইন্টারনেটের গতি দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। বরং প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান কতটা উন্নত করছে এবং সামাজিক ও আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে কতটা ভূমিকা রাখছে, সেটিই হবে সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।

এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার, প্রযুক্তি খাত, শিক্ষাবিদ ও জনগণের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকেও ডিজিটাল রূপান্তরের সুবিধার আওতায় আনা।

২৭ দেশের অংশগ্রহণে এআই সম্মেলন

এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংগঠন এশিয়ান-ওশেনিয়ান কম্পিউটিং ইন্ডাস্ট্রি অর্গানাইজেশন (অ্যাসোসিও) আয়োজিত তিন দিনের সম্মেলনে ২৭টি দেশের প্রযুক্তিবিদ ও ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।

সম্মেলনে এআই, ডিজিটাল রূপান্তর এবং প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের মতো বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইন্দোনেশিয়ার এই পরিকল্পনায় প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি পরিবহন, যোগাযোগ ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের সমন্বিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

 

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version