আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে এক পাইলটকে পকেট ছুরি দিয়ে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর বিমানটি জরুরি সংকেত পাঠিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। এ ঘটনায় বিমানের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
‘দ্য টাইমস অব ইসরায়েল’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুবাই থেকে তেলআবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট FZ1073-এ ঘটনাটি ঘটে। এক নারী যাত্রী বার্তা দিয়ে জানান, তিনি হঠাৎ বিমানের ভেতরে চিৎকার শুনতে পান। পরে ককপিটের দরজা খোলা হলে সেখানে রক্ত দেখতে পান এবং জানতে পারেন, একজন পাইলট ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন।
ওই যাত্রী জানান, বিমানের ক্রু সদস্য ও কয়েকজন ইসরায়েলি যাত্রী মিলে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আরেক যাত্রী নোয়াম বলেন, এক পাইলট আহত হওয়ার পর বিমানের নিয়ন্ত্রণে সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়েছিল। ছুরিকাঘাতে পাইলট গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও তিনি জানান।
ঘটনার পর বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। নোয়ামের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেকে তখন প্রার্থনা শুরু করেন এবং নিরাপদে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
বিমানটির গতিপথ পর্যালোচনা করে ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪ জানায়, বিমানটি প্রথমে সাধারণ জরুরি সংকেত পাঠায়। পরে আরেকটি সংকেত পাঠানো হয়, যাতে সম্ভাব্য ‘অবৈধ হস্তক্ষেপ’-এর ইঙ্গিত ছিল। এরপর বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি জর্ডানের আকাশসীমা থেকে গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের দিকে যায় এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম জরুরি সংকেত পাঠানোর আগে বিমানটি ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ছিনতাইয়ের ঘটনা বলে ধারণা করা হলেও পরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তরের এক মুখপাত্র সেই ধারণা নাকচ করেন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়ানেট জানিয়েছে, ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য ছিনতাই বা অবৈধ হস্তক্ষেপের সংকেতটি দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে সক্রিয় হয়েছিল।
তবে বিমানের ভেতরে ঠিক কী ঘটেছিল এবং পাইলটকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
