যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে নিজের ভাইকে বিয়ে করে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো এ অভিযোগ ঘিরে আবারও তদন্ত শুরু হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগের পক্ষে আত্মীয়তার সম্পর্ক প্রমাণের মতো চূড়ান্ত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।

২৯ অক্টোবর প্রকাশিত দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯ সালে আহমেদ নুর সাঈদ এলমিকে বিয়ে করার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভিবাসন-সংক্রান্ত তদন্তের অন্যতম অংশ। এলমি তখন যুক্তরাজ্যের নাগরিক ছিলেন।

২০১৬ সালে শুরু হয়েছিল তদন্ত

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালের গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই (FBI) এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের দাবি, ইলহান ওমর ও আহমেদ এলমির মধ্যে ভাই-বোনের সম্পর্ক থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল।

তদন্তকারীদের সন্দেহ ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দিতে এলমিকে বিয়ে করেছিলেন ওমর। ওই বিয়ের ভিত্তিতে এলমি শর্তসাপেক্ষে দুই বছরের গ্রিন কার্ড পেয়েছিলেন বলেও তদন্তসংশ্লিষ্ট সাবেক কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন পেতে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত নথি চাইলে এলমি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে যান এবং আবেদন প্রত্যাহার করেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে অভিযোগের পক্ষে ঠিক কী ধরনের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। পাঁচ বছরের আইনি সময়সীমা অতিক্রম করায় বিয়ের মাধ্যমে অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগে তখন ফৌজদারি মামলা এগোয়নি।

নতুন করে কেন তদন্ত?

সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইলহান ওমরের পরিবারের যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী হিসেবে আসা এবং অভিবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি নিয়ে নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করেছে।

গত ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিতে ওমরের বাসায় তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। এ সময় তাঁর মুঠোফোন, ল্যাপটপ, নোটবুক ও পাসপোর্ট জব্দ করা হয় বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় ওমরের বাবা অভিবাসনসংক্রান্ত কোনো তথ্য গোপন করেছিলেন কি না এবং ২০০০ সালে নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে ওমর বয়সসংক্রান্ত যোগ্যতা পূরণ করেছিলেন কি না।

অভিযোগ অস্বীকার ইলহান ওমরের

নিজের বিরুদ্ধে ভাইকে বিয়ে করে অভিবাসন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন ইলহান ওমর। তাঁর বক্তব্য, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বর্ণবাদী ষড়যন্ত্র।

সম্প্রতি এমএস নাউয়ের উপস্থাপক ক্রিস হেইসের এক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে ওমর বলেন, ‘আমার জানা মতে, এমনটা নয়।’

তাঁর মুখপাত্রও অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

অন্যদিকে, ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের একটি তথ্য যাচাই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য দিয়ে ওমর ও এলমির মধ্যে ভাই-বোনের সম্পর্ক নিশ্চিত করা যায়নি। একই ধরনের নাম বা পারিবারিক সূত্রের অস্পষ্ট তথ্য আত্মীয়তার চূড়ান্ত প্রমাণ নয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে দীর্ঘদিনের এ বিতর্ক নতুন করে তদন্তের আওতায় এলেও ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয়। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের পরই এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version