ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য সামনে এসেছে। ভ্যান্স যেখানে যুদ্ধের মধ্যে মার্কিন প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেশের মানুষের জন্য তেল ও গ্যাসের দাম কম রাখার কথা বলেছিলেন, ট্রাম্প বলেছেন—ইরান যাতে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেটিই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই তার ‘নম্বর ওয়ান গোল’ এবং এটি সবসময়ই তার প্রধান লক্ষ্য থাকবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেছিলেন, ইরান যুদ্ধের সময় প্রশাসনের প্রথম লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সাধারণ মানুষের জন্য তেল ও গ্যাসের দাম কম রাখা। এরপর দ্বিতীয় লক্ষ্য হিসেবে তিনি ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকানোর কথা উল্লেখ করেন।
ভ্যান্সের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ইরানকে পরমাণু অস্ত্র থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে। তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে পরিষ্কার হয়েছে, প্রেসিডেন্টের কাছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঠেকানোই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
ট্রাম্পের অবস্থান আগেও ছিল একই
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের বর্তমান বক্তব্য তার আগের অবস্থানের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর আগে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের আর্থিক পরিস্থিতি ইরানের সঙ্গে সামরিক সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছিলেন, বিষয়টি তার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নয়।
তখন তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেটিই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অর্থনৈতিক চাপ বা যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের আর্থিক পরিস্থিতির চেয়ে ইরানের পরমাণু সক্ষমতা বন্ধ করাকেই তিনি অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন।
তেল-গ্যাসের দাম নিয়েও চাপ বাড়ছে
ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাড়লে তেলের সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের ওপর জ্বালানি ব্যয়ের চাপ বাড়তে পারে।
এ কারণে ভ্যান্সের বক্তব্যে তেল ও গ্যাসের মূল্যকে প্রথম অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, জ্বালানি মূল্য নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ইরানের পরমাণু সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি তার কাছে কৌশলগতভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশাসনের অভ্যন্তরে মতের পার্থক্যের ইঙ্গিত
প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে এই পার্থক্য যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতির অগ্রাধিকার নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। একদিকে জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং অন্যদিকে ইরানের পরমাণু ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ করা—দুই লক্ষ্যই প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে পরমাণু অস্ত্রের বিষয়টিকে এক নম্বর লক্ষ্য হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। এতে ইঙ্গিত মিলছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কৌশলে সামরিক ও নিরাপত্তাগত বিবেচনাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে।
ইরান যুদ্ধ কতদিন চলবে এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক তেলবাজার, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কীভাবে বদলাবে—এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
