আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা আরও তীব্র হয়েছে। মঙ্গলবার ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর কয়েক ঘণ্টা পর জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত একটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি তেলবাহী ট্যাংকারে ওমান উপসাগরে হামলা চালানো হয়। ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল খার্গ দ্বীপের কাছেও আরেকটি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়। পরে সেন্টকম জানায়, হামলায় একটি ট্যাংকার ডুবে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হামলার শিকার জাহাজগুলো আইআরজিসি ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়নে ব্যবহৃত একটি বড় ‘শ্যাডো নেটওয়ার্কের’ অংশ। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরান মার্কিন নৌযানকে লক্ষ্য করে হামলা বা হামলার চেষ্টা চালালে তার জবাবে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এরপর জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত একটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি ভূপাতিত করা হয়েছে। বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে। হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইরানের আইআরজিসি দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে তারা দুটি মার্কিন জাহাজ, আটটি তেলবাহী ট্যাংকারসহ মোট ১০টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তবে এসব দাবির সবকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে ইরানের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন পানির নিচে পরিচালিত ড্রোন জব্দ করার দাবি করেছিল। তবে মার্কিন সেন্টকম জানিয়েছে, সেটি একটি পুরোনো মডেলের ড্রোন, যা এক দিনেরও বেশি আগে ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়েছিল। এতে সংবেদনশীল তথ্য বা শ্রেণিবদ্ধ কোনো সরঞ্জাম ছিল না বলেও দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। এশিয়ার বাণিজ্যে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক অস্থিতিশীলতা তেলের বাজারে চাপ আরও বাড়াচ্ছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায়ও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর মধ্যেই ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ৭৩ জন আহত হয়েছেন। হামলার কারণে কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় আগুন ধরে যায় এবং সাময়িকভাবে কিছু কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এখন শুধু সামরিক স্থাপনায় সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব পড়ছে জ্বালানি অবকাঠামো, সমুদ্রপথ ও আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও। পরিস্থিতি আরও কতটা বিস্তৃত হয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
