আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনো পক্ষ কঠোর পদক্ষেপ নিলে তারও ‘দাঁতভাঙা’ জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (SCO) সম্মেলনের পর পুতিন এসব মন্তব্য করেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকেও তিনি তেহরানের প্রতি রাশিয়ার সমর্থনের কথা জানান।
পুতিন বলেন, কঠিন সময়ে ইরানের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে রাশিয়া এবং প্রয়োজনীয় পণ্যও সরবরাহ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে তেহরানের প্রতি মস্কোর সমর্থন অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পুতিন। তিনি বলেন, রাশিয়ার বাহিনী ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় ধরনের হামলা চালানোর নির্দেশ পেয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের হামলার জবাব হিসেবে রাশিয়ার পাল্টা আক্রমণও জোরদার হয়েছে।
পুতিনের দাবি, ইউক্রেনের হামলায় গত ৪০ দিনে রাশিয়ার প্রায় ১০০টি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে দেশটির জিডিপির প্রায় ১ শতাংশ সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। তবে ইউক্রেনের যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন ডিপ স্টেট রাশিয়ার ভূখণ্ড দখলের হিসাব নিয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন পুতিন। তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কাজ করতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। মস্কোয় সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফের সাম্প্রতিক সফর নিয়েও পুতিনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনার মধ্যে রাশিয়া-ইরান সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। একই সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধও নতুন করে তীব্র হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে পুতিনের সর্বশেষ বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
