ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলীয় হাদরামাউত প্রদেশের মুকাল্লা শহরে অবস্থিত আল-রাইয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একাধিকবার হামলার অভিযোগ উঠেছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোরে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ‘সেপ্টেম্বর নেট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল মাজেদ আল-নুজাইলি বিমানবন্দরে চতুর্থ দফায় হামলার অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, বিমানবন্দরে হামলার উদ্দেশ্য ইয়েমেনের জনগণের ওপর অবরোধ আরোপ করা।
তবে সর্বশেষ হামলার ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। হুথিদের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বুধবারও বিমানবন্দরে হামলার খবর
এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) আল-রাইয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে তিনটি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানোর খবর প্রকাশিত হয়। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে ইয়েমেনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ড্রোনগুলো বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছাকাছি এলাকায় পড়ে। ওই ঘটনায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য জানানো হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আল-রাইয়ান বিমানবন্দর হাদরামাউত প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক বিমান যোগাযোগকেন্দ্র। এই বিমানবন্দর দিয়ে মুকাল্লা শহরসহ আশপাশের এলাকার বহু মানুষ যাতায়াত করেন। ফলে সেখানে হামলার ঘটনায় বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এডেন বিমানবন্দরেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর
এদিকে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সাবার প্রতিবেদনে এ হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আল-জাজিরার ২১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এডেন বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং সেখানে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র এডেনের বদর সামরিক শিবিরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছিলেন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ আল-রাইয়ান বিমানবন্দর?
মুকাল্লা শহরে অবস্থিত আল-রাইয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হাদরামাউত অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক বিমানবন্দর। আকাশপথে যাত্রী চলাচলের পাশাপাশি জরুরি যোগাযোগ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও এ ধরনের বিমানবন্দরের ভূমিকা রয়েছে।
ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ওঠায় বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত এবং জরুরি পরিবহনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সর্বশেষ হামলার প্রকৃত পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতি এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রমে এর প্রভাব সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
