ইসলামাবাদ, ২৩ আগস্ট ২০২৬: পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খানকে আদালতের নির্দেশিত বেসরকারি হাসপাতালে না নিয়ে সরকারি হাসপাতালে নেওয়ার অভিযোগে সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেছে তাঁর দল।
শনিবার পিটিআইয়ের আইনজীবী নাইম পাঞ্জুথা জানান, প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রীসহ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ইমরান খানকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে দুই দিনের মধ্যে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির আশঙ্কা থেকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে শুক্রবার কর্তৃপক্ষ ইমরান খানকে শিফা হাসপাতালে না নিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) নিয়ে সংক্ষিপ্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করায় এবং পরে তাঁকে আবার কারাগারে ফেরত পাঠায়। পিটিআইয়ের অভিযোগ, এ সময় তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসককেও সঙ্গে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
পিটিআই নেতাদের দাবি, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ইমরান খানকে অন্তত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা উচিত। দলটি এ ঘটনাকে আদালতের নির্দেশ অমান্য হিসেবে দেখছে।
তবে পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, ইমরান খানের চিকিৎসা পরীক্ষায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে—এমন কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, শিফা হাসপাতালে নিরাপত্তাঝুঁকি থাকায় ইমরান খানকে পিআইএমএসে নেওয়া হয়েছিল।
ইমরান খানের বোন উজমা খান, যিনি পিআইএমএসে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলাকালে উপস্থিত ছিলেন, দাবি করেছেন যে তাঁর ভাই শারীরিকভাবে তুলনামূলক সুস্থ থাকলেও কারাগারে বারবার নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। তাঁর গ্রেপ্তার ও মামলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানে রাজনৈতিক উত্তেজনা চলছে। পিটিআই জানিয়েছে, হাসপাতাল ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়বে এবং আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের পরিকল্পিত বিক্ষোভের প্রস্তুতিও জোরদার করা হবে।

