আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইন্দোনেশিয়ায় আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে আকাশে ছড়িয়ে পড়েছে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয় ছাই। ছাইয়ের মেঘ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ফুট (প্রায় ৬ থেকে ১৫ কিলোমিটার) উচ্চতা পর্যন্ত উঠেছে। এতে বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে দেশটির আটটি বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী দুডি পুরওয়াগান্ধি জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সোমবার সকাল পর্যন্ত বিমানবন্দরগুলো বন্ধ ছিল। এর মধ্যে রাজধানী জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দর সুকর্ণ-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও রয়েছে।

আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরিটি জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত। শুক্রবার গভীর রাতে আগ্নেয়গিরিটি অগ্ন্যুৎপাত শুরু করলে বিপুল পরিমাণ ছাই ও ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেই ছাই জাকার্তা ও আশপাশের এলাকায়ও পৌঁছে যায়।

সুকর্ণ-হাত্তা বিমানবন্দরটি রোববার সকালে প্রথম বন্ধ করা হয়। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও কয়েকটি বিমানবন্দর ধাপে ধাপে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এর ফলে বহু ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত দেশটিতে ১ হাজার ৫৫৮টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। বিশেষ করে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে চলাচলকারী ফ্লাইটগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া দোহা, সিডনি ও কুয়ালালামপুরসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটও ব্যাহত হয়েছে।

পরিবহনমন্ত্রী দুডি পুরওয়াগান্ধি বলেন, আবহাওয়ার পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল হওয়ায় পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূতত্ত্ব সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, জাভা দ্বীপের আকাশে আগ্নেয় ছাই প্রায় ২০ হাজার ফুট এবং সুমাত্রা দ্বীপের আকাশে প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় পৌঁছেছে। জাভার বানতেন প্রদেশের কিছু এলাকাতেও ছাই দেখা গেছে।

অগ্ন্যুৎপাতের ছাইয়ের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাকার্তা ও লাম্পুংয়ের কিছু স্কুলে দূরশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। এই এলাকায় ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত তুলনামূলকভাবে বেশি ঘটে।

‘আনাক ক্রাকাতোয়া’ নামের অর্থ ‘ক্রাকাতোয়ার সন্তান’। ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে পুরোনো ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। ওই অগ্ন্যুৎপাতের পর সৃষ্ট সুনামিতে ৩৬ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version